Skip to main content

Posts

হিমু এবং তার অলৌকিক স্যান্ডেল-১ম পর্ব

Recent posts

কুরআনের এক আয়াতে বদলে যাওয়া এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর জীবন

কুরআনের এক আয়াতে বদলে যাওয়া এক ব্রিটিশ বিজ্ঞানীর জীবন ​বিজ্ঞান ও ধর্মের সংঘাত বহু পুরোনো। অনেকেই মনে করেন, বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ মানুষকে ধর্ম থেকে দূরে ঠেলে দেয়। কিন্তু ইতিহাস মাঝেমধ্যেই এমন কিছু চরিত্রের মুখোমুখি আমাদের দাঁড় করিয়ে দেয়, যেখানে বিজ্ঞানই হয়ে ওঠে সত্য অনুসন্ধানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এমনই এক অনন্য ও বাস্তব সত্য ইতিহাসের নায়ক ব্রিটিশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ডক্টর আর্থার জেমস এলিসন (ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম হয় আবদুল্লাহ এলিসন)। ১৯৮৫ সালের কায়রোতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি আজও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে সমানভাবে তাড়িত করে। ​অবচেতন মন ও আত্মার সন্ধানে এক বিজ্ঞানী ​প্রফেসর এলিসন কেবল একজন সাধারণ প্রকৌশলী ছিলেন না; তিনি ছিলেন লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান। মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল লাইনের মানুষ হলেও তাঁর আগ্রহের একটা বড় জায়গা জুড়ে ছিল মানুষের মনস্তত্ত্ব, অবচেতন মন এবং 'প্যারাসাইকোলজি' (Parapsychology) বা মানুষের অলৌকিক মানসিক ক্ষমতা। মানুষ যখন ঘুমায়, তখন তার চেতনা বা আত্মার অবস্থা ঠিক ...

বিশ্বাস নয়, অস্তিত্বই যথেষ্ট: ইবন সিনার Argument from Contingency

  মানুষ যখন সত্যের অনুসন্ধানে বের হয়, তখন তার প্রথম প্রশ্নটি সাধারণত এই—“আমি কেন আছি?” এই প্রশ্নের ভেতরেই লুকিয়ে আছে অস্তিত্ব, কারণ, প্রয়োজন ও উদ্দেশ্যের গভীর অনুসন্ধান। ইসলামী দর্শনের ইতিহাসে ইবন সিনা (Avicenna) এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে যে যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন, তা দর্শনের জগতে এক অনন্য মাইলফলক। এই যুক্তিই পরিচিত বুরহান আল-সিদ্দিকিন নামে, যাকে আধুনিক ভাষায় বলা হয় Argument from Contingency বা সম্ভাব্যতা থেকে স্রষ্টার প্রমাণ। আমি এই বিষয়টি উপস্থাপন করব কোনো আবেগী ধর্মীয় বক্তৃতার ভঙ্গিতে নয়, আবার শুষ্ক একাডেমিক ভাষাতেও নয়। বরং বাস্তবতা, যুক্তি ও অস্তিত্বের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে—যেভাবে একজন সত্যসন্ধানী মানুষ নিজে ভাবতে ভাবতে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। ১. অস্তিত্ব মানেই কি অপরিহার্য? আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখি—মানুষ, গাছ, গ্রহ, নক্ষত্র, এমনকি এই বিশাল মহাবিশ্ব—সবকিছুর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে: এগুলো একসময় ছিল না এবং একসময় থাকবে না। একটি মানুষ জন্মের আগে অস্তিত্বহীন ছিল। একটি গাছ বীজ না হলে গাছ হয় না। একটি গ্রহ নির্দিষ্ট সময়ের আগে গঠিত হয়নি। অর্থাৎ, এদের অস্তিত্ব অপরিহার্য নয়। ইবন সিনা এই ধরনের...

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বাধ্যতামূলক করা যাবে না যেই কারণে

 প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত বাধ্যতামূলক করা মানে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। যেহেতু সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, সেহেতু এটা একটা আলাদা বিষয় হিসেবে থাকবে, মানে পরীক্ষায় নাম্বার থাকবে, ফেল পাসের হিসাব থাকবে। এখানেই আমার আপত্তি। ইসলামী শরীয়তে গান-বাজনা স্পষ্টভাবে হারাম। নবী করিম (সা.) গান-বাজনা, মদ, জুয়া, ব্যভিচার—এইসব হারাম জিনিস ধ্বংস করার জন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন। এখন সেই হারাম জিনিসকেই আবার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার অংশ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা কি ন্যায়সঙ্গত? বাংলাদেশ একটা মুসলিম প্রধান দেশ, প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষ মুসলমান। তাদের বিশ্বাস, তাদের জীবনধারা—সব ইসলামভিত্তিক। তাহলে ইসলামে যেটাকে হারাম বলা হয়েছে, সেটা বাধ্যতামূলক করে শেখানো হবে, এটা কি সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা নয়? ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কি ধর্মবিরোধিতা? সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা আছে, “প্রত্যেক নাগরিক তার ধর্ম পালন, প্রচার ও প্রসারের অধিকার রাখে।” তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে রাষ্ট্র যদি সংগীতকে বাধ্যতামূলক করে দেয়, সেটা কি সংবিধান লঙ্ঘন নয়? আপনা...

দাব্বাতুল আরদ ও আধুনিক এআই: কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণীর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

অনেকেই বলে থাকেন, কোরআনের মধ্যে নাকি সবকিছু রয়েছে। তখন প্রশ্ন আসে—কম্পিউটার বা মোবাইলের কথা কোরআনে কোথায় বলা হয়েছে? আসলে কোরআন কোনো সায়েন্সের বই নয়, তবে কোরআনে সাইন রয়েছে, গবেষণার অসংখ্য বিষয় রয়েছে। আমি একজন সত্য অনুসন্ধানী হিসেবে দেখতে চাই কোরআন দিয়ে প্রমাণ করা যায় কিনা যে কম্পিউটারের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা। আমরা জানি, হযরত মুসা (আ.) এর যুগ ছিল যাদুবিদ্যার যুগ, তাই তাঁকে আল্লাহ যাদুর জবাব দেওয়ার মতো অলৌকিক মুজিজা দিয়েছিলেন। হযরত ঈসা (আ.) এর যুগ ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগ, তাই তাঁকে দেওয়া হয়েছিল অলৌকিক চিকিৎসার ক্ষমতা। আর আমাদের যুগ হচ্ছে বিজ্ঞানের যুগ। সুতরাং কোরআনকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, না হলে কোরআনকে অনেকে মিথ্যা বলবে। আর এজন্যই বিজ্ঞানের হাজারেরও বেশি সাইন কোরআনে রয়েছে, যেগুলা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে। এখন আসি কম্পিউটারের ব্যাপারে। কোরআনে বলা হয়েছে— ‘‘যখন প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) নিকটবর্তী হবে তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং বলবে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না’’ (সূরা নামল 27:82...

নাস্তিক ইমরান বশির এর ফালতু যুক্তি খন্ডন

 আমার এক বড় ভাই হঠাৎ করে নাস্তিক হয়ে গেল। আমিতো দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম কারণ সে যে বইগুলো পড়ে নাস্তিক হয়ে গিয়েছিল সবগুলা বই ভালো করে পড়েছি। মূলত তার লাইব্রেরী ছিল আমার অবসরের সঙ্গী দিনরাত ওইখানে পড়ে থাকতাম। তার অসাধারণ সব কালেকশন ছিল বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদের। আমি অবাক হয়ে গেলাম একই বই পড়ে সে নাস্তিক হয়ে গেল আর আমার বিশ্বাস বৃদ্ধি পেল। তখন সে একটা লজিক দেখাতো কোন সৃষ্টিকর্তা এর দরকার নেই সবকিছু এমনি এমনি তৈরি হয় উদাহরণস্বরূপ পানি কিছুদিন রাখলে সেখানে অটোমেটিক কিছু প্রাণী সৃষ্টি হয়, আজকেও সেম একটা উদাহরণ পেলাম নাস্তিক ইমরান bashir  যে নাকি হুজুর থেকে নাস্তিক হয়েছে সে বলতেছে মানুষ পায়খানা করলে অটোমেটিক কিছু পোকা তৈরি হয় এর জন্য সৃষ্টি কর্তা দরকার নাই। তো আজকে এ ব্যাপারে একটা জবাব লিখতেই হবে,  দেখা যাক নাস্তিকদের যুক্তি: “আপনি যদি একটি পাত্রে পানি রাখেন কয়দিন, সেখানে ছোট ছোট প্রাণী (যেমন অ্যামিবা বা আর্থ্রোপড) দেখা দেয়। এটিই প্রমাণ যে জীবন স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মায় এবং স্রষ্টা প্রয়োজন নেই।”  এই থিওরি এর নাম spontaneous generation , যেটা বিজ্ঞান ইতিমধ্যেই ...

পুনর্জন্মের বিশ্বাস ও সুফিবাদ এর ভ্রান্ত ধারণা

  আজকে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেই না, আমাদের সূফীবাদের অনেক ভাইয়েরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে হিন্দু বদ্ধ ধর্মের একটা বিশ্বাস পুনজন্মের বিশ্বাস। অধ্যায় ২, শ্লোক ২২ > वासांसि जीर्णानि यथा विहाय, नवानि गृह्णाति नरोऽपराणि। तथा शरीराणि विहाय जीर्णानि, अन्यानि संयाति नवानि देही॥ বাংলা অর্থ: যেমন একজন মানুষ পুরোনো কাপড় ফেলে নতুন কাপড় পরে, তেমনি আত্মা পুরোনো দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে। অধ্যায় ৪, শ্লোক ৫ > बहूनि मे व्यतीतानि जन्मानि तव चार्जुन। तान्यहं वेद सर्वाणि न त्वं वेत्थ परंतप॥ বাংলা অর্থ: হে অর্জুন! আমি বহু জন্ম অতিবাহিত করেছি, তুমিও তাই। আমি সেসব সকলই জানি, কিন্তু তুমি জানো না। আরো অনেক সূফীবাদী ভাইয়েরা বিশ্বাস করে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান সব প্রাণীর মধ্যে আছেন এটাও একটা ধর্মের বিশ্বাস দলিল দিতাছি ঋগ্বেদ (১০.৯০) – পুরুষ সূক্ত > सहस्रशीर्षा पुरुषः सहस्राक्षः सहस्रपात्। पृथिव्यां यस्य सर्वाङ्गं, सर्वत्र समवस्थितः॥ বাংলা অর্থ: পুরুষ (পরমাত্মা) সহস্র মাথা, সহস্র চোখ ও সহস্র পা বিশিষ্ট। তিনি সমগ্র পৃথিবীজুড়ে বিরাজমান এবং সব কিছুর মধ্যে অবস্থান করেন। পুনজন্ম আর আল্লাহ ...