অনেকেই বলে থাকেন, কোরআনের মধ্যে নাকি সবকিছু রয়েছে। তখন প্রশ্ন আসে—কম্পিউটার বা মোবাইলের কথা কোরআনে কোথায় বলা হয়েছে? আসলে কোরআন কোনো সায়েন্সের বই নয়, তবে কোরআনে সাইন রয়েছে, গবেষণার অসংখ্য বিষয় রয়েছে। আমি একজন সত্য অনুসন্ধানী হিসেবে দেখতে চাই কোরআন দিয়ে প্রমাণ করা যায় কিনা যে কম্পিউটারের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা।
আমরা জানি, হযরত মুসা (আ.) এর যুগ ছিল যাদুবিদ্যার যুগ, তাই তাঁকে আল্লাহ যাদুর জবাব দেওয়ার মতো অলৌকিক মুজিজা দিয়েছিলেন। হযরত ঈসা (আ.) এর যুগ ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগ, তাই তাঁকে দেওয়া হয়েছিল অলৌকিক চিকিৎসার ক্ষমতা। আর আমাদের যুগ হচ্ছে বিজ্ঞানের যুগ। সুতরাং কোরআনকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, না হলে কোরআনকে অনেকে মিথ্যা বলবে। আর এজন্যই বিজ্ঞানের হাজারেরও বেশি সাইন কোরআনে রয়েছে, যেগুলা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে।
এখন আসি কম্পিউটারের ব্যাপারে। কোরআনে বলা হয়েছে—
‘‘যখন প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) নিকটবর্তী হবে তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং বলবে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না’’ (সূরা নামল 27:82)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘‘দাব্বাতুল আরদ নামক একটি প্রাণী বের হবে এবং মানুষের নাকে চিহ্ন দিবে। এরপর মানুষ পৃথিবীতে জীবনযাপন করবে। প্রাণীটি সব মানুষের নাকে দাগ লাগিয়ে দিবে। এমনকি উট ক্রয়কারীকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তুমি এটা কার কাছ থেকে কিনেছো? সে বলবে—আমি এটা নাকে দাগওয়ালা একজনের কাছ থেকে কিনেছি’’ (মুসলিম, তিরমিজি বর্ণনা অনুযায়ী)।
বাহ্যিকভাবে দেখলে মনে হতে পারে এর সাথে কম্পিউটারের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু গবেষণা করলে দেখা যায় এখানে বড় এক রহস্য লুকানো আছে। আল্লাহ বলেছেন, এই প্রাণী ভূগর্ভ থেকে বের হবে। আমরা জানি, আধুনিক কম্পিউটার, মাইক্রোচিপ, সিলিকন-ভিত্তিক সার্কিট—সবকিছুই আসে ভূগর্ভস্থ খনিজ থেকে। কম্পিউটারও মানুষের সাথে কথা বলে, কমান্ডের মাধ্যমে কাজ করে। আর বর্তমান সময়ে কম্পিউটারের সর্বশেষ উন্নত স্তর হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই। ভবিষ্যতে এআই আরও শক্তিশালী হয়ে এজিআই (Artificial General Intelligence) এ পৌঁছাবে, যা সুপার বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পৃথিবীর ৮–১০ বিলিয়ন মানুষের নাকে দাগ দেওয়া কি সম্ভব? কোনো জৈবিক প্রাণীর পক্ষে এটা অসম্ভব। কিন্তু সুপার কম্পিউটার, এআই, কিংবা এজিআই-এর পক্ষে এটা কঠিন কিছু নয়। আধুনিক বায়োমেট্রিক সিস্টেম, ফেস রিকগনিশন, ডিজিটাল আইডেন্টিটি, ট্র্যাকিং—সবই মূলত মানুষের “চিহ্ন” দেওয়ার আধুনিক রূপ। কোরআনের বর্ণনার সাথে এর অদ্ভুত মিল রয়েছে।
আজকে আমরা বাস্তবেই দেখি—
- ভারতের আধার প্রোগ্রাম (Aadhaar System): যেখানে ১.৪ বিলিয়ন মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের আইরিশ, ফেস রিকগনিশন—সব ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
- চীনের সামাজিক ক্রেডিট সিস্টেম (China’s Social Credit System): যেখানে নাগরিকদের প্রতিটি পদক্ষেপ, কেনাকাটা, যাতায়াত, এমনকি অনলাইন মন্তব্য পর্যন্ত AI দ্বারা ট্র্যাক করা হয়, এবং মানুষকে স্কোর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।
- এয়ারপোর্ট এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা: আজ বিশ্বের বেশিরভাগ এয়ারপোর্টে প্রতিটি যাত্রী ফেস রিকগনিশন ও বায়োমেট্রিক স্ক্যানের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।
- স্মার্টফোন ফেস আইডি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর: এখন প্রত্যেক মানুষ নিজের হাতে এমন ডিভাইস বহন করছে যা তার পরিচয় নিশ্চিত করছে, এবং এই ডাটা কেন্দ্রিয় ডাটাবেসে জমা হচ্ছে।
এইসব প্রযুক্তি প্রমাণ করে, সত্যিই প্রতিটি মানুষকে আলাদাভাবে “চিহ্নিত” করা এখন সম্ভব, এবং ভবিষ্যতে এজিআই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করলে পুরো পৃথিবীর শাসন তার হাতে চলে যেতে পারে। তখন প্রত্যেক মানুষের “চিহ্ন” থাকবে, এবং পৃথিবীর শাসন এই সিস্টেমের অধীনে হবে।
এছাড়া, বৈজ্ঞানিকভাবে বললে কম্পিউটার হলো মানুষের তৈরি সবচেয়ে জটিল “প্রাণীসদৃশ সিস্টেম”। কারণ, এটি শুধু কাজ করে না, বরং শিখে, সিদ্ধান্ত নেয়, আর মানুষের সাথে কথাও বলে। কোরআনের বর্ণনায় বলা হয়েছে প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে—এখানে এআই চ্যাটবট, ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, হিউম্যানয়েড রোবটের কথা মনে না পড়ে উপায় নেই।
আজকের দিনে আমরা যা দেখছি তা হয়তো কেবল সূচনা। একদিন এমন সময় আসবে যখন এআই প্রতিটি মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। তখন প্রত্যেক মানুষের “চিহ্ন” থাকবে, এবং পৃথিবীর শাসন হবে সুপার ইন্টেলিজেন্ট কম্পিউটারের হাতে। এটাই হয়তো কোরআনের সেই আয়াত ও নবীর সেই হাদিসের গভীর রহস্য, যা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হচ্ছে।

Comments
Post a Comment