Skip to main content

Posts

Showing posts from May, 2015

টাচ স্ক্রিনের ইতি টানছে গুগল? ইশারাতেই চলবে কাজ

ডিজিটাল স্ক্রিনে আঙুলের স্পর্শে কাজ করার দিনও খুব শিগগিরই নম্বর ঘুরিয়ে ফোন করার মতো পুরনো হয়ে যাবে। যদি গুগল পরিকল্পনার পথে এগোতে থাকে, তবে স্মার্টফোন-ট্যাব বা অন্য কোনো স্ক্রিন কোনোদিন হাতের স্পর্শ পাবে না। গুগলের গবেষণাগার তাদের ভবিষ্যতের প্রজেক্ট দেখিয়েছে। সেখানে বাতাসে আঙুলের ইশারাতে ভার্চুয়াল দুনিয়ার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এ প্রজেক্টকে 'সোলি' বলে ডাকছেন তারা। আঙুলের মাইক্রো মোশনে বাতাসে রাডার ওয়েভের ব্যবহারে ডিজিটাল পর্দায় যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা হবে। 'মাইনোরিটি রিপোর্ট'-এর মতো সায়েন্স ফিকশন ছবিতে এ ধরনের কাজ করতে দেখা যায়। সিনেমার কাহিনী বাস্তব হতে চলেছে গুগলের হাত ধরে। গুগলে অ্যাডভান্সড টেকনলজি অ্যান্ড প্রজেক্টস ল্যাব-এ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ চলছে। এটি ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে যার পরিচালনায় রয়েছেন রেজিনা ডুগান। 'সোলি' প্রযু্‌ক্তির একটি প্রোটোটাইপ দেখিয়েছে গুগল যা সবার নজর কেড়েছে। বুড়ো আঙুল ও তর্জনির ব্যবহারে চিমটি কাটা বা নির্দিষ্ট গতিতে তাদের ঘর্ষণের মাধ্যমে পর্দায় অনেক নির্দেশ পাঠানো যায়। ডেমো-তে গুগলের প্রজেক্ট সোলি'র প্রতিষ্ঠাতা আইভান ...

তোমরা যারা ‘জিপিএ ফাইভ’ পাওনাই!

ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেল আমি মোট ৫ বিষয়ে লেটার পেয়ে এসএসসি পাশ করেছি। তার মধ্যে আবার অংকে ৯৫! ‘এইটা কীভাবে সম্ভব?’ - শুধু এই ক্ষোভে আমার বেশ ক’জন ছোটবেলার বন্ধু আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলো। কী যে অপরাধবোধ লাগছিলো নিজের কাছে? পাঁচ বিষয়ে লেটারের দরকারটা কী ছিলো? তার চেয়ে বন্ধুইতো ভাল! নয়?  তারপর এইচএসসি’তে ফলাফলের পতন হলো। প্রথম বিভাগে পাশ করলেও যেহেতু মাত্র দুইটাতে লেটার পেলাম, অতএব সবাই বিরাট মন খারাপ করলো। পরিবারের সবাই এই সিদ্ধান্তে উপণীত হল যে, ‘আমি শেষ’! তারপর ‘পয়েন্ট তিনে’র ব্যবধানে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমার্স ফ্যাকাল্টিতে চান্স পেলামনা, ততক্ষণে আমি বুঝলাম যে, আমার পায়ের নিচের সব মাটি মোটামুটি নাড়াচাড়া করতেছে, এবং আমি অবশ্যই শেষ….!  এই খারাপ রেজাল্টটা অব্যাহত রাখলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম সেমেস্টারে দুই বিষয়ে ‘এফ গ্রেড’ পেয়ে দ্বিতীয় সেমেস্টারে ওঠলাম। তবে শেষমেষ এই রেজাল্টের প্রভূত উন্নতি হয়েছে এবং অনার্সের শেষে দেখা গেল সিজিপিএ ৩ এর বেশ ওপরে। মাস্টার্সে আরো ভালো রেজাল্ট! কেমনে কী হলো, সেই প্রসঙ্গে না যাই! ভেবে দেখলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি যে কাজটা কদাচিৎ করেছি স...

হাবুর অফিস এবং জুতার গল্প । রম্য

হাবু আজ সকাল সকাল নাস্তা খেয়ে জুতা টাইট করে বেধে রওনা হলো অফিসে যাবার জন্যে । তার অফিস ১১ টায় শুরু হবে । সে তড়িঘড়ি করে বের হতে দেরী করে ফেলেছে । এখন সকাল ৭ টা বাজে । নির্ঘাত অফিসে লেট হয়ে যাবে আজ । যাই হোক তাও বের হওয়া গেছে তা নাহলে আজ আর অফিসে যাওয়াই হতো না । গত সপ্তাহে পুরোনো একজোড়া জুতার কারনেই তার অফিসে যাওয়া হয়নি । একটা বিআরটিসি বাস টার্গেট করে লাফ দিতেই জুতা আটকে গেল ম্যানহোলের ঢাকলায় । ব্যাস আর বাসটায় ওঠা গেল না । হাবলু তারপরে আশা ছাড়েনি । আরো দুই ঘন্টা ধরে রাস্তায় ছিলো কিন্তু পরের বাস গুলিকে সে তার টার্গেটে পরিনত করতে পারেনী । তখনি ডিসিশন নিয়েছে আগামি সপ্তাহেই সে নতুন বুট জুতা কিনবে । যে জুতা পরলে টার্গেট করা বাস ফসকে যাবে না । লোকে জুতার মাড়া খেয়ে সরে যাবে । সব জল্পনা কল্পনা শেষে আজ সেই শুভদিন । আজ সে বুট জুতা পরে বের হয়েছে । আজ তাকে রুখবে কে ? সবচেয়ে ভাল হতো জুতার দুপাশে দুটি করে সুচালে দাত রাখতে পারলে । তবে এখন যা আছে তাই বা কম কিসে । 'বুদ্ধিমান ব্যাক্তি আটকে থাকেনা', এই প্রবাদটি আজকে আবারো সত্যি প্রমানিত হলো । সে প্রায় আধকিলো দুর হতে দেখলো রংচটা লাল রংএর বাসটি কচ...

ক্ষুধার তালিকায় শীর্ষে ভারত

স্মার্ট সিটি, মেক ইন ইন্ডিয়া আর যোগে রোগ বিয়োগের দাওয়াই যতই নরেন্দ্র মোদdd দিন না কেন, বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের তালিকায় ভারত এখন এক নম্বরে। বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘের প্রকাশ করা ‘বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তার হালচিত্র, ২০১৫’ শীর্ষক একটি রিপোর্টে এমনটাই জানানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯ কোটি ৪৬ লাখ ক্ষুধিত মানুষ নিয়ে প্রথমে রয়েছে ভারত। এর পরেই রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার একাধিক দেশ। ওই রিপোর্ট বলছে, ১৯৯০-৯২-এ গোটা বিশ্বে যেখানে ক্ষুধার্তের সংখ্যা ছিল ১০০ কোটি, সেখানে বছর তেইশেক বাদে তার হার তুলনামূলকভাবে কমেছে। ২০১৪-১৫-এ তা এসে দাঁড়িয়েছে ৭৯ কোটি ৫০ লাখে। এর মধ্যে ক্ষুধার্তের সংখ্যা আনুপাতিকভাবে অনেক কমেছে পূর্ব এশিয়ায়। তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীন। অথচ পূর্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী চীনেই ছিল সবথেকে বেশি ক্ষুধার্ত মানুষ। চীন যেখানে ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করে এতদূর অগ্রসর হয়েছে, সেখানে ভারতের ছবিটি মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়। যদিও ভারতে ক্ষুধার্তের সংখ্যা কমেছে। যেখানে ১৯৯০-১৯৯২ সালে ক্ষুধার্তের সংখ্যা ছিল ২১ কোটি সেখানে ২০১৪-১৫ সালে কমে হয়েছে ১৯ কোটি ৪৬ লাখ।

৫৫ কোটির বিদ্যুৎ বিল!

পরিবারটি সদস্য সংখ্যা ৫, শোবার ঘর দুটি। বাড়িতে নেই এসিও। এছাড়া গরমকালে এলাকাজুড়ে লোডশেডিং তো লেগেই আছে। এমন এক পরিবারে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৫৫ কোটি রুপি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাঁচিতে। কৃষ্ণ প্রসাদ নামের ওই ভদ্রলোক বিয়েবাড়ি গিয়েছিলেন সপরিবারে। সম্প্রতি সেখান থেকে রাঁচিতে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন । রাঁচিতে ফিরে দেখেন চলে এসেছে ইলেকট্রিক বিল। কিন্তু, তার অঙ্কে আপাতত মাথায় হাত গোটা পরিবারের। এক, দুই নয় একেবারে ৫৫ কোটির ইলেকট্রিক বিল! এও সম্ভব! নাওয়া-খাওয়া ভোলার জোগাড় হয়েছে পরিবারের। কৃষ্ণ প্রসাদ জানিয়েছেন তার বাড়িতে বৃদ্ধ মা রয়েছে। এই খবরে তার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অবস্থা হয়েছিল। বিদ্যুৎ দফতরের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষ্ণবাবু। পরিবারের সদস্য রয়েছেন পাঁচজন। রাঁচির কাদরু এলাকায় তাদের বাড়ি। দুটি শোবার ঘর রয়েছে।  ঝাড়খণ্ড ইলেকট্রিসিটি বিভাগ স্বীকার করে নিয়েছে, কর্মীদের ভুলেই এই ঘটনা। ইতিমধ্যে দফতরের দু’জনকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।

১৫ বছর ধরে পুতুলের সঙ্গে ঘর-সংসার! (ভিডিও)

পুতুলের সাথে কি কখনো সংসার করা যায়? তাও আবার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে! বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যিই পৃথিবীতে রয়েছে এমন মানুষ যে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রীতিমত সংসার করছে পুতুলের সাথে! যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এক ‘টেকনোসেক্সুয়াল’ ব্যক্তি সিনথেটিক একটি পুতুলের সঙ্গে সুখেই সংসার করছেন দীর্ঘ ১৫ বছর! শুধু তাই নয়, মানুষের অসামঞ্জস্য আচরণের সাথে তাল মিলিয়ে চলার থেকে পুতুলের সাথে সংসার করাকেই অনেক উত্তম বলে মনে করেন তিনি। এই অদ্ভুত ব্যক্তির নাম ডেভক্যাট। বয়স ৪০ বছর। তিনি পুতুলের অধিকার রক্ষা ও পুতুলের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার কাজে নিজেকে একজন সচেতন কর্মীও মনে করেন। পুতুলের সঙ্গে সংসারের বিষয়টি তিনি সমাজে ছড়িয়ে দিতে চান। মানুষের মতো সিডোর কুরোনেকো নামের ওই স্ত্রী পুতুলটি কল্পিত একজন মেয়ের আঙ্গিকে বানানো। জেনে ভীষণ অবাক হবেন যে মনের মতো সিনথেটিক স্ত্রী বানাতে তিনি ব্যয় করেছেন ৬ হাজার ডলার! শুধু তাই নয়, গাঁটছড়া বাঁধার ১৫তম বার্ষিকীটি স্মরণীয় করে রাখার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিশেষ কিছু করার। টিএলসি’র একটি অনুষ্ঠান ‘মাই স্ট্রেঞ্জ অ্যাডিকশন’ ও বিবিসি’র ডকুমেন্টারি ‘গাই...

টাকা গাছের খোঁজ মিলেছে

কথায় বলে, টাকা কি গাছে ধরে? হ্যাঁ, গাছেই ধরেছে। শিরোনাম দেখে অনেকের চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেছে, অনেকের হয়তো রাগ হচ্ছে! তবে সত্ত্যি বলতে কি? গাছটি দেখলে হয়তো আপনারও এমনই মনে হবে। সম্প্রতি, ইংল্যান্ডে এমনই একটি টাকার গাছের সন্ধান মিলেছে।(tree-final)। ইংল্যান্ডের কয়েক হাজার পর্যটক ‘ইচ্ছাপূরণ গাছ’ তৈরি করেছেন। এই ‘ইচ্ছাপূরণ গাছ’ কে অবশ্য এখন অনেকেই টাকার গাছ হিসেবে উল্লেখও করছেন। মানুষের ধারণা, এই গাছে টাকা লাগিয়ে রাখলে মনের সব আশা আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে তাই গাছের গায়ে হাতুড়ি দিয়ে খোদাই করে মুদ্রা রাখেন পর্যটকরা। ফলে গাছটির বাকলে শুধু টাকা আর টাকা। তাই অনেকে এই গাছকে টাকার গাছ হিসেবেই ডাকছেন। কোনও পথচারী কিংবা পর্যটক ওই গাছের সামনে আসলে এই টাকার গাছে নিজের ইচ্ছা পূরণের সদিচ্ছায় গুঁজে দিচ্ছেন টাকা। এভাবে প্রতিটা গাছ পথচারীর গোপন ইচ্ছা এবং স্বপ্ন পূরণের আশা নিয়ে যেন দাঁড়িয়ে আছে। এ ধরনের গাছ ইংল্যান্ডের কাম্ব্রিয়া এবং পোর্টমেরিয়ন অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। বিবিসি সূত্রে জানা যায়, ১৭০০ সালের দিকে সুইডিশ লোকজন তাদের অসুস্থতা আরোগ্য লাভের আশায় গাছে মুদ্রা খোদাই করতেন। তবে ...

মৃত ভাইয়ের মুখ ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা মানুষের সঙ্গে দেখা করার অনুভূতি (ভিডিওসহ)

২১ বছর বয়সী তরুণ জোস মারা যাওয়ার পর তার মুখটি দুর্ঘটনায় নষ্ট হওয়া অপর এক তরুণ ট্রান্সপ্ল্যান্ট করেছিলেন। সম্প্রতি সেই ট্রান্সপ্ল্যান্টকৃত মুখের মানুষটির সঙ্গে দেখা করেন জোসের বোন রেবেকা অ্যাভারসানো। এক প্রতিবেদনে সে অনুভূতি প্রকাশ করেছে পিটিআই। সম্প্রতি রেবেকা তার ভাইয়ের মুখ ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা ব্যক্তি রিচার্ড নরিসের সঙ্গে দেখা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় নরিসের বাসায় এ সাক্ষাৎ হয়। এ সময় তিনি তার ২১ বছর বয়সে মৃত ভাইয়ের মুখই যেন দেখতে পান। প্রথমবার তার ভাইয়ের মুখ লাগানো সে ব্যক্তিকে দেখে একপর্যায়ে রেবেকা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'আমি যদি একটু স্পর্শ করি তাহলে আপনি কি কিছু মনে করবেন?' সম্মতি পেয়ে মুখ স্পর্শ করে রেবেকা বলেন, 'ওয়াও।' 'এ মুখের সঙ্গেই আমি বেড়ে উঠেছি।' বলেন রেবেকা। রেবেকার ভাই মারা যাওয়ার পর তার মুখ নরিসকে দান করে রেবেকার পরিবার। ৩৯ বছর বয়সী নরিস তার মুখে গুলি করে আহত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার মুখে নানা সমস্যা দেখা দেয় এবং তা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসকরা দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর...

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে স্বাধীন দুই দেশ এসতোনিয়া আর লিথুয়ানিয়ার পথে পথে এ এক অন্যরকম ভ্রমণ এসতোনিয়া আর লিথুয়ানিয়া

রিগা থেকে তাল্লিন চলেছি। ছোট্ট বিমান। যাত্রীসংখ্যা সর্বসাকুল্যে জন্য পনেরো। এক ঘণ্টার পথ। আড়াইটায় তাল্লিন বিমানবন্দরে নামলাম। বন্দরে পা রেখেই বিস্ময়। পাসপোর্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেই, শুল্ক দফতরের জিজ্ঞাসাবাদ নেই, নিষিদ্ধ জিনিস ঘোষণার দরকার নেই। বাইরে আসার জন্য লাল সবুজ পথ নেই। ব্যাগেজ ক্লেইম থেকে সুটকেসটা নিয়ে সোজা বাইরে চলে এলাম। এ যেন একাই দেশের একটা শহর থেকে আর-একটা শহরে এলাম। সুতরাং টাকা ভাঙাবার দরকার নেই। বন্দরের গেটের বাইরে এসে আর এক বিস্ময়। গেরুয়া বসনে এক যুবক এগিয়ে এসে হাতজোড় করেন দাঁড়াল। জিজ্ঞাসা করি, আপনি ইস্কন থেকে এসেছেন? হ্যাঁ। আমাকে চিনলেন কী করে? কিয়েভ থেকে খবর এসেছে ভারত থেকে এক অতিথি আসছেন। আপনার পোশাকই আপনার পরিচয়। এই পোশকে আর কেউ তো এখানে নেই। বোঝা গেল ইউক্রেনের সবেতলানা নোবোছাদ আমার আসার খবর এদের জানিয়েছে। যুবক বলল, আসুন একটু দুরে গাড়ি রেখে এসেছি। সঙ্গে ইউথ হোস্টের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। ডরমিটরিতে আমার জন্য একটা বেড বুক করতে অযাচিত আশ্রয়স্থল যখন জুটেই গেল তাকে পায়ে ঠেলি কেন? যুবকের সঙ্গে তার গাড়িতে উঠলাম। আধঘণ্টার মধ্যে একটি মন্দিরে পৌঁছে গেলাম। কাঠের সিঁড়ি দিয়ে দ...
একবার ভাবুন, আপনি ছুটছেন পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ ধরে। জিপের ভেতর দাঁত কামড়ে বসে আছেন। পাল্লা দিয়ে চলছেন মেঘের সাথে। মেঘগুলো কখনো জিপের এক পাশের জানালা দিয়ে ঢুকছে। আর বের হচ্ছে অন্য পাশ দিয়ে। আপনি ছুটছেন প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতার এক শহরের উদ্দেশে। বলছি দার্জিলিংয়ের কথা। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছবির মতো সুন্দর স্বপ্নপুরী এই দার্জিলিং। কিভাবে যাবেন? প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভোর নগরী পাহাড়ে ঘেরা অপূর্ব চিরহরিৎ ভূমির দার্জিলিংয়ে স্থলপথে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি দার্জিলিং যেতে চাইলে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারি সীমান্ত অতিক্রম করে যাওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার গাবতলী থেকে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। মতিঝিল থেকে ভারতের শিলিগুঁড়ি পর্যন্ত যায় বিআরটিসি-শ্যামলী পরিবহণের গাড়ি। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে পাসপোর্টে নির্দিষ্ট সময়ের ভিসা নিয়ে রাত ১০টার সুপার সেলুন চেয়ার কোচে উঠে পড়ুন বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ভাড়া জনপ্রতি আর কত সামর্থের মধ্যেই। ভোর ৭টা নাগাদ আপনি অনায়াসে পৌঁছে যাবেন বুড়িমারী চেকপোস্টে। ইমিগ্রেশন অফ...

সাগরকন্যা কুয়াকাটা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পটুয়াখালীর সাগরকন্যা বলে খ্যাত কুয়াকাটা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র সৈকত যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। সে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য- যা দেখার জন্য প্রতিদিন এখানে ভিড় জমায় দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক। বাংলাদেশ থেকে প্রাকৃতিক এই দুর্লভ সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগটা আপনি অনায়াসেই পেতে পারেন কুয়াকাটাতে। স্থানীয় মানুষ আর ভ্রমণপিয়াসীরা কুয়াকাটায় এসে আদর করে ডাকেন সাগরকন্যা বলে। জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের সর্বশেষ দক্ষিণে অসাধারণ এ সমুদ্রসৈকতটির অবস্থান। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের দৈর্ঘ্য ১৮ কিলোমিটার, প্রস্থ সাড়ে ৩ কিলোমিটার। দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এ সৈকতে আছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও ঘোড়া। বর্ষাকালে সাগর থাকে উত্তাল, ফলে সাগরের সৌন্দর্য হয়ে যায় অন্য রকম। কুয়াকাটায় শুধু সমুদ্রসৈকতই নয়, এখানে দেখার মতো আছে আরো অনেক জায়গা।  কিভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সড়কপথে কুয়াকাটার দূরত্ব ৩২০ কিলোমিটার। ঢাকার সায়েদাবাদ ও গাবতলীর বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি আসতে পারেন কুয়াকাটায়। ভাড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। সময় লাগবে ...
ইন্টারনেটের আজকের অবস্থা আর আগের অবস্থার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। ১৯৯৫ সাল থেকে ইন্টারনেটের কি কি পরিবর্তন ঘটেছে তা তুলে ধরেছে ক্লেইনার পারকিনস কুফিল্ড অ্যান্ড বেয়ারস (কেপিসিবি)। কেপিসিবি এর একটি প্রভাবশালী রিপোর্ট প্রথম বের হয় ১৯৯৫ সালে। তখন নেটস্কেপের বিষয় ছিল না। কম্পানি এবং তাদের আইপিও এর বিষয় ছিল অজানা। কিন্তু এখন গুগল রয়েছে। আরো কিছু প্রতিষ্ঠান বিশ্বের ২.৮ বিলিয়ন মানুষকে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। এই সংখ্যা ১৯৯৫ সালে ছিল মাত্র ৩৫ মিলিয়ন। মর্গান স্ট্যানলি এর সাবেক বিশ্লেষক ম্যারি মিকার এর ২০তম বার্ষিক প্রতিবেদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছে কেপিসিবি। আধুনিককালে ইন্টারনেটের যাবতীয় বিষয় প্রবেশ করেছে মোবাইলে। একের পর এক সোশাল মিডিয়া, মেসেজ প্লাটফর্ম ইত্যাদি ঝেঁকে বসেছে ইন্টারনেটের দুনিয়ায়। আন্তঃযোগাযোগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ক্রেতার চাহিদাও বদলে গেছে। বিশেষ করে চাইনিজ ইন্টারনেট ফার্মগুলো উদ্ভাবনী দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। এ ছাড়া ভারত দ্বিতীয় বৃহত্তম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দেশে স্থান করে নিয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। এক পলক দেখে নেওয়া যাক এখানে। প্রতিষ্ঠান ...

যেখানে সকলেই মাটির নীচে বাস করেন!

এ যেন কল্পবিজ্ঞানেরই বাস্তব রূপ! খানিকটা জুলেভার্নের 'জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্য আর্থ'-এর মতো। পৃথিবীর গভীরে আরেক বিশ্বের খোঁজ। হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়াতেই রয়েছে এমন শহর। আস্ত শহরটাই গড়ে উঠেছে মাটির তলায়। আর পাঁচ আধুনিক শহরের মতোই। অ্যাডিলেড থেকে ৮৪৬ কিলোমিটার উত্তরে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বসবাস শহরটিতে। অস্ট্রেলিয়ার এই শহরটির নাম কুবের পেডি। জন্ম ১৯১৫ সালে। শহরটির মূল বৈশিষ্ট হল বহুমূল্য রত্নের খনি। opal নামক রত্নটি বিশ্বের ৯৫ শতাংশই পাওয়া যায় কুবের পেডি এলাকা থেকে। শহরটিতে বাইরে থেকে দেখলে তাজ্জব হতে হয়। চারিদিক জনমানব শূন্য। স্থানে স্থানে গুহা। সেই গুহাগুলি থেকে নেমে গিয়েছে সুড়ঙ্গের মতো সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি চলে গিয়েছে গভীরে। সিঁড়ি ধরে নীচে নামলেই রূপকথা!  অত্যাধুনিক বাসস্থান। উচ্চপ্রযুক্তির সরঞ্জাম। রয়েছে দামি হোটেল। সুইমিং পুল। কেন এই শহর মাটির তলায়? ফিরে যেতে হবে শতবছর আগে। অস্ট্রেলিয়ার একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চলে তীব্র গ্রীষ্মের দাপট। গ্রীষ্মকালে কুবের পেডি এলাকায় তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  তাই দারুণ দহন থেকে বাঁচতে শহরের বাসিন্দারা ঠিক করেন, মাট...

খুঁটির উপর দাঁড়ানো গ্রাম

পুরো খুঁটির উপর দাঁড়িয়ে আছে ঘানার একটি গ্রাম৷ নাম এনজুলেজো৷ সেখানে ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে স্কুল- সবই আছে। ঘানার ভেনিস! ইতালির ভেনিসের কথা কে না জানে! পানির উপর যেন পুরো একটি শহর দাঁড়িয়ে আছে৷ ঘানার এনজুলেজোর অবস্থাও একই রকম৷ তাই তো মাঝেমধ্যেই তাকে ‘ঘানার ভেনিস’ নামে ডাকা হয়৷ রাজধানী আক্রা থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই গ্রামে প্রায় ৫০০ লোক বাস করে৷ ইউনেস্কো-তে নাম পাঠানো হয়েছে এনজুলেজোর নাম বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠাতে নাম প্রস্তাব করেছে ঘানা৷ প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এনজুলেজোতে মানুষ আর পরিবেশ যেন একে অন্যের সাথে একেবারে মিশে আছে৷ সেখানকার ইকোসিস্টেম এখনো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক অবস্থায় আছে৷ এছাড়া এলাকায় বেশ কয়েক প্রজাতির পাখি, বানর, কুমির আর কচ্ছপের দেখা পাওয়া যায়৷ মালি থেকে আসা প্রচলিত কিংবদন্তি অনুযায়ী, এনজুলেজোর বর্তমান বাসিন্দাদের পূর্বপুরুষদের বাস ছিল বর্তমানে আফ্রিকার আরেকটি দেশ মালিতে৷ পঞ্চদশ শতকে সেখানকার মানডে সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায় তাদের পালাতে হয়েছিল৷ সেই থেকে তাদের বিভিন্ন জায়গায় সাময়িকভাবে বসতি গড়তে হয়েছে এবং মাঝেমধ্যেই উৎখাতের শিক...

টাইটানিকের অভিশপ্ত সেই কফিন

টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পেছনে বৈজ্ঞানিক-অবৈজ্ঞানিক অনেক কারণ নিয়ে আলোচনা আজও শেষ হয়নি। কিছু দৈব কাহিনীও প্রচলিত আছে। তেমনই একটি কাহিনী নিয়ে আজকের আয়োজন মেয়েটা আর দশটা মেয়ের মতো নয়, অদ্ভুত কিছু অলৌকিক ক্ষমতা ছিল তার। ইংল্যান্ডের এক রাজ্যের এক ছোট্ট গরিব গ্রামে বাস করত মেয়েটা। সময়টা তখন সতের শতকের কোনো এক সাল। সে সময়ে এক রহস্যগল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজও এক অধরা রহস্য হয়ে রয়েছে রহস্যপ্রেমীদের মনে। মেয়েটা যে রাজ্যে বাস করত সে রাজ্য শাসন করতেন এক অত্যাচারী রাজা। খাজনা আদায়ের জন্যে প্রজাদের উপর নানা রকম অত্যাচার করতেন। চাপ প্রয়োগ করে সব গ্রাম থেকে খাজনা আদায় করলেও মেয়েটার গ্রাম থেকে অত্যাচার করে ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করতে পারতেন না। তার কারণ ছিল মেয়েটার অলৌকিক ক্ষমতা। মেয়েটা ভবিষ্যৎ বলতে পারত কিংবা তার অনুমানশক্তি খুব তীব্র এটাও বলা যায়। রাজার সৈন্যরা কখন আক্রমণ করবে মেয়েটা তার অলৌকিক ক্ষমতাবলে আগে থেকে জেনে যেত। সেটা গ্রামবাসীকে বলে দিত। ফলে গ্রামবাসী প্রস্তুত থেকে রাজার সৈন্যদের মোকাবেলা করতে পারত। এ কারণে ওই গ্রামে রাজার সৈনিকদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হতে লাগল। ঘটনা জ...

অচেনা গলি

বসিরের বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত বারোটা বেজে গেল। বাসায় ফিরে তার মনে হল বিরাট ভুল হয়ে গেছে। ঘরে চাল নেই। ফেরার পথে চাল কেনার কথা ছিল। দুনিয়ার চিন্তা ভাবনা করতে করতে শেষ মুহূর্তে চাল কেনার কথা ভুলে গেছে। এখন বের হয়ে কিনে আনা যায় কিন্তু বারোটার মধ্যে গেট বন্ধ হয়ে যায়। ওদিকে পেটের ভিতরে ক্ষুধার চোটে হাতুড়ির বাড়ি পরছে। বাইরে গিয়ে যে খেয়ে আসবে তারও উপায় নেই। কতবার ভেবেছে ঘরে বিস্কিট জাতীয় কিছু কিনে রাখবে। কেনা হয় ঠিকি কিন্তু রাখা হয় না। কেনার সাথে সাথেই খেয়ে ফেলে ও।  যেহেতু রাতে খাবার দাবারের কোন সম্ভাবনা নেই তাই বসির খাবারের চিন্তা বাদ দিয়ে প্যান্ট, শার্ট আর ব্যাগ খাটে ছুড়ে ফেলে লম্বা শাওয়ারের উদ্দেশ্যে বাথরুমে ঢুকে গেল। এই বাসায় পানি, গ্যাস আর বিদ্যুতের কোন ঝামেলা নেই।  বসির একটি এনজিওতে চাকরি করে। ফিল্ড ওয়ার্কার। সারাদিন এখানে সেখানে দৌড়া দৌড়ী করে খেটে মরতে হয়। অফিস থেকে ওকে একটি ল্যাপটপ দেয়া হয়েছে। এতেই সে ভীষণ খুশী।  ক্ষুধার কারনে বসিরের ঘুম পরীও ফাঁকি দিল । বাধ্য হয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসল। পরের দিন শুক্রবার। ছুটির দিন। সারারাত ঘুম না এ...