আজকে একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা না করলেই না, আমাদের সূফীবাদের অনেক ভাইয়েরা মনে প্রানে বিশ্বাস করে হিন্দু বদ্ধ ধর্মের একটা বিশ্বাস পুনজন্মের বিশ্বাস।
অধ্যায় ২, শ্লোক ২২ > वासांसि जीर्णानि यथा विहाय, नवानि गृह्णाति नरोऽपराणि। तथा शरीराणि विहाय जीर्णानि, अन्यानि संयाति नवानि देही॥ বাংলা অর্থ: যেমন একজন মানুষ পুরোনো কাপড় ফেলে নতুন কাপড় পরে, তেমনি আত্মা পুরোনো দেহ ত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে।
অধ্যায় ৪, শ্লোক ৫ > बहूनि मे व्यतीतानि जन्मानि तव चार्जुन। तान्यहं वेद सर्वाणि न त्वं वेत्थ परंतप॥ বাংলা অর্থ: হে অর্জুন! আমি বহু জন্ম অতিবাহিত করেছি, তুমিও তাই। আমি সেসব সকলই জানি, কিন্তু তুমি জানো না।
আরো অনেক সূফীবাদী ভাইয়েরা বিশ্বাস করে আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান সব প্রাণীর মধ্যে আছেন এটাও একটা ধর্মের বিশ্বাস দলিল দিতাছি
ঋগ্বেদ (১০.৯০) – পুরুষ সূক্ত > सहस्रशीर्षा पुरुषः सहस्राक्षः सहस्रपात्। पृथिव्यां यस्य सर्वाङ्गं, सर्वत्र समवस्थितः॥
বাংলা অর্থ: পুরুষ (পরমাত্মা) সহস্র মাথা, সহস্র চোখ ও সহস্র পা বিশিষ্ট। তিনি সমগ্র পৃথিবীজুড়ে বিরাজমান এবং সব কিছুর মধ্যে অবস্থান করেন।
পুনজন্ম আর আল্লাহ সর্বত্র বিরাজমান এই দুই বিশ্বাস সুফিবাদি ভাইদের চূড়ান্ত বিপদগ্রস্ত করেছে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে হিন্দুদের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। আর ইসলাম ধর্মে যে পূর্ণ জন্মের কোন অস্তিত্ব নেই সবই ভাঁওতাবাজি বিধর্মীদের ধর্ম নষ্ট করার চাল সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করব
আল্লাহ মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
সূরা আল-ইসরা (১৭:৭০) > وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِّنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَىٰ كَثِيرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا “আমি অবশ্যই আদম সন্তানকে মর্যাদাবান করেছি; আমি তাদের স্থল ও জলে চলাচলের উপায় দিয়েছি, তাদের উত্তম রিজিক দিয়েছি এবং আমি তাদেরকে আমার সৃষ্টির অনেকের উপর সুস্পষ্টভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।”
যে ধর্ম মানুষকে কুকুর, বিড়াল বা কীটপতঙ্গ হয়ে জন্ম নিতে বলে, তা মানুষের মর্যাদা অস্বীকার করছে। ইসলাম মানুষের জন্য যে উচ্চ মর্যাদা নির্ধারণ করেছে, পুনর্জন্মের বিশ্বাস তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেয়।
তিনি আরো বলেছেন আমি মানুষকে প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছি। পৃথিবীতে পাঠিয়েছে পরীক্ষার জন্য, পৃথিবীতে একবারই আসবে, বারবার আসবে না,
দলিল -সূরা আল-মু’মিনুন (২৩:৯৯-১০০) > حَتَّىٰٓ إِذَا جَآءَ أَحَدَهُمُ ٱلْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ٱرْجِعُونِ (٩٩) لَعَلِّيٓ أَعْمَلُ صَٰلِحًۭا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ كَلَّآ ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَآئِلُهَا ۖ وَمِن وَرَآئِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ (١٠٠) “যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলে, ‘হে আমার প্রভু! আমাকে আবার (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠিয়ে দিন, যাতে আমি যে কাজগুলো অবহেলায় ফেলে এসেছি, তা ভালোভাবে করতে পারি।’ কখনোই নয়! এ তো শুধু তার মুখের কথা। আর তাদের পেছনে রয়েছে এক অন্তরাল (বারযাখ) — যে পর্যন্ত না তারা পুনরুত্থিত হবে।”
ভালো মানুষ হবে জান্নাতের প্রতিনিধি খারাপ মানুষ হবে জাহান্নামের প্রতিনিধি। এখানে কুত্তা বিলাই হয়ে জন্ম নেওয়ার কোন কথা নাই। এসব হিন্দু ধর্ম থেকে ঢোকানো হয়েছে মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার জন্য।
অতএব, মৃত্যুর পর আবার দুনিয়ায় ফেরত আসার কোনও সুযোগ নেই।
ভালো মানুষ হবে জান্নাতের অধিবাসী, খারাপ মানুষ হবে জাহান্নামের অধিবাসী। এখানে কুকুর, বিড়াল, পাখি হয়ে জন্ম নেওয়ার কোনও কথা নেই। এগুলো স্পষ্টভাবে হিন্দু ধর্মের প্রভাবিত কল্পকাহিনি, যা মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার জন্য চালু করা হয়েছে।
দলিল সূরা ত্বা-হা (২০:৫৫) > مِنْهَا خَلَقْنَٰكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَىٰ “আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, তাতে তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেব, এবং সেখান থেকে আবার তোমাদেরকে একবার বের করব।”
এই আয়াত পুনর্জন্মের কথা সরাসরি বাতিল করে দেয়
এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—মানুষ একবারই দুনিয়ায় আসে, মৃত্যুর পর মাটিতে ফিরে যায়, এবং কেয়ামতের দিনে পুনরায় বের করা হবে।
সোহেল রানা

Comments
Post a Comment