Skip to main content

নাস্তিক ইমরান বশির এর ফালতু যুক্তি খন্ডন



 আমার এক বড় ভাই হঠাৎ করে নাস্তিক হয়ে গেল। আমিতো দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম কারণ সে যে বইগুলো পড়ে নাস্তিক হয়ে গিয়েছিল সবগুলা বই ভালো করে পড়েছি। মূলত তার লাইব্রেরী ছিল আমার অবসরের সঙ্গী দিনরাত ওইখানে পড়ে থাকতাম। তার অসাধারণ সব কালেকশন ছিল বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদের। আমি অবাক হয়ে গেলাম একই বই পড়ে সে নাস্তিক হয়ে গেল আর আমার বিশ্বাস বৃদ্ধি পেল। তখন সে একটা লজিক দেখাতো কোন সৃষ্টিকর্তা এর দরকার নেই সবকিছু এমনি এমনি তৈরি হয় উদাহরণস্বরূপ পানি কিছুদিন রাখলে সেখানে অটোমেটিক কিছু প্রাণী সৃষ্টি হয়, আজকেও সেম একটা উদাহরণ পেলাম নাস্তিক ইমরান bashir  যে নাকি হুজুর থেকে নাস্তিক হয়েছে সে বলতেছে মানুষ পায়খানা করলে অটোমেটিক কিছু পোকা তৈরি হয় এর জন্য সৃষ্টি কর্তা দরকার নাই। তো আজকে এ ব্যাপারে একটা জবাব লিখতেই হবে, 


দেখা যাক নাস্তিকদের যুক্তি: “আপনি যদি একটি পাত্রে পানি রাখেন কয়দিন, সেখানে ছোট ছোট প্রাণী (যেমন অ্যামিবা বা আর্থ্রোপড) দেখা দেয়। এটিই প্রমাণ যে জীবন স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মায় এবং স্রষ্টা প্রয়োজন নেই।” 


এই থিওরি এর নাম spontaneous generation , যেটা বিজ্ঞান ইতিমধ্যেই disproved করেছে, ১৮৫৯ সালে লুই পাস্তুর পরীক্ষা: দুইটি বাটি রাখা হলো, একটি খোলা, অন্যটি বায়ু প্রবেশ করতে পারবে না এমনভাবে। খোলা বাটিতে ডিম বা ব্যাকটেরিয়া জন্মায় (বায়ু, ধূলিকণা, জীবাণু থেকে)। বন্ধ বাটিতে কোন প্রাণী জন্মায় না। অর্থাৎ জীবন অটোমেটিকভাবে পানি থেকে জন্মায় না। পাত্রের প্রাণীরা প্রাকৃতিকভাবে ডিম বা ব্যাকটেরিয়া থেকে এসেছে।  মাইক্রো-প্রাণীদের উদ্ভব প্রক্রিয়া যে প্রাণীরা পানি বা ধূলার মধ্যে দেখা যায়: 


1. বাতাস থেকে মাইক্রোবস, ব্যাকটেরিয়া, বা ডিম আসে। 2. পানি, তাপ, আলো—প্রয়োজনীয় পরিবেশ পাওয়া মাত্র তারা বৃদ্ধি পায়। স্বতঃস্ফূর্ত জন্ম নয়।  অনেক টা ডিম্ থেকে বাচ্চা ফুটান এর মত , জগতে এমনি এমনি কিছু সৃষ্টি হয় না।   তেমনি পায়খানার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, প্রকৃতিতে পোকা বা ব্যাকটেরিয়া পায়খানার ভিতরে নিজে নিজে জন্মায় না।


উদাহরণ:

মাছি পায়খানায় ডিম পাড়ে → ডিম থেকে লার্ভা জন্মায় → লার্ভা পরে পোকা হয়ে যায়।


কোনো স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টি ঘটে না।


এটি বিজ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত (Pasteur-এর পরীক্ষা, ১৮৫৯)।


সংক্ষেপে: ছোট উদাহরণটি ভুল ব্যাখ্যা।


ছোট উদাহরণ দিয়ে মহাবিশ্বের স্রষ্টা অস্বীকার করা যুক্তি দুর্বল পানি এবং ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কিত ঘটনা মাত্র স্থানীয় প্রক্রিয়া, মহাবিশ্বের বড় নিয়ম বা সৃষ্টির ব্যাখ্যা দেয় না। মহাবিশ্বে সূক্ষ্ম নিয়ম, পৃথিবীর অবস্থান, সৃষ্টির জটিলতা—এগুলো অটোমেটিক নয়। 


সহজ তুলনা ধরুন, একটি ঘড়ির মেকানিজম। কেউ বলল: "ঘড়ি নিজে থেকে চলে, কোনো কারিগর প্রয়োজন নেই।" বাস্তবে আমরা জানি ঘড়ি তৈরি হয়েছে কারিগর দ্বারা। পানি এবং মাইক্রো-প্রাণীও একই রকম। তারা নিজে নিজে তৈরি হয়নি; উপযুক্ত পরিবেশে ইতিমধ্যেই উপস্থিত জীবাণু বৃদ্ধি পায়। এটি সৃষ্টির প্রমাণের বিপরীতে যায় না, বরং প্রকৃতির নিয়ম এবং সৃষ্টির সূক্ষ্মতা বোঝায়।  তাই  আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি  1. পানি থেকে প্রাণী অটোমেটিক জন্মায় না এর পেছনে মহা প্রক্রমশালীর মহান পরিকল্পনা রয়েছে।  একটা উপন্যাস এক ঘটনা প্রবাহ বর্ণনা করে তার মানে এই না এর লেখক এর দরকার নাই। 

Comments

Popular posts from this blog

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির সূরা ফাতিহা "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-২ )

  আমাদের এই মহাবিশ্ব শুধু একবার জন্ম নেয়নি, এটা একটার পর একটা চক্রে সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছে। কুরআনে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আমরা দেখতে পাই, এই মহাবিশ্ব চক্রবদ্ধ। আল্লাহ প্রথম মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, সেটি সংকুচিত হয়ে আবার বিস্তৃত হলো—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিগ বাউন্স বা বড় লাফ। এই চক্রগুলো আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথম চক্র ছিল বিগ ব্যাং-১ এর সময়। তখন মহাবিশ্বে শুধু হাইড্রোজেন ছিল, যা পরবর্তীতে হিলিয়ামসহ আরও কিছু হালকা মৌলে রূপান্তরিত হয়েছিল। মহাকাশ তখন একরকম ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে ছিল, যাকে কুরআনে “ধোঁয়া” বলা হয়েছে। আল্লাহ সেখানে মহাকর্ষ বল সংযোজন করলেন, যা মহাবিশ্বকে সঙ্কুচিত করতে শুরু করে। এই সঙ্কোচনের ফলে ভারী মৌল, যেমন সিলিকন তৈরি হয় এবং ধূলিকণা ও গ্রহাণু জমে জমে জমি গঠনে সাহায্য করে। কুরআনে এ ঘটনার বর্ণনা আছে: “আর তিনি আসমান (প্রথম মহাকাশ) সৃষ্টি করলেন ধোঁয়া থেকে; তারপর বল দিলো ‘তুমি এসো একসাথে, ইচ্ছেমতো বা বাধ্য হয়ে।’ তারা বলল, ‘আমরা ইচ্ছেমতো এসেছি।’ ফলে আল্লাহ সাত আসমান তৈরি করলেন।” (সূরা ফুসসিলাত: ১১-১২) এই প্রথম চক্র ছিল একক আসমানবিশিষ্ট মহাবিশ্ব। তবে ...

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-১)"

 এই মহাবিশ্ব, যেখানে আমরা এখন বাস করছি, তা অত্যন্ত নিখুঁত নিয়ম ও সূচনাগত বিন্যাস অনুযায়ী সৃষ্টি হয়েছে। এই সূচনাগত নিখুঁততা ও প্রাকৃতিক নিয়মের কারণে এটি আজকের অবস্থানে এসেছে। পৃথিবীর উপাদান ও যৌগসমূহ এমন সব প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসরণ করে যা পরস্পরের সাথে এত সুন্দরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তা আমাদের জীবনকে টিকিয়ে রাখে। পানির পরিমাণও এখানে বিপুল এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই অনন্য। এসব কিছু আমাদের বোঝায় যে এই মহাবিশ্ব একটি অসাধারণভাবে বুদ্ধিমান সত্তার সৃষ্টি, যিনি আল কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ীই ঈশ্বর। তিনি শুধু সৃষ্টি করেননি, তিনি বিকাশকারকও। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও দার্শনিক চিন্তাধারায় একটি বিকল্প ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যেটিকে বলা হয় মাল্টিভার্স বা বহু-বিশ্ব তত্ত্ব। এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, এমন অসংখ্য বিগ ব্যাং (Big Bang) ঘটতে পারে যার ফলে অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হয় এবং এইসবের মধ্যে কাকতালীয়ভাবে একটি মহাবিশ্ব জীবনের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে। এই ধারনা ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়াই সৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। ফিলোসফিক্যাল আলোচনায় "fine-tuning" বা সূক্ষ্ম-সামঞ্জস্য শব্দটি প্রায়ই ব্যব...

আল্লাহ কিভাবে লক্ষ কোটি প্রাণীর ফরিয়াদ একসাথে শুনেন?

  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।  এক গুগল যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, এক চ্যাটজিপিটি যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের কথা শুনতে পারে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তাদের অনুভূতি বুঝে নিতে পারে, তাহলে একজন সৃষ্টিকর্তা কেন পারবেন না? গুগল কি মানুষ? না। চ্যাটজিপিটি কি মানুষ? না। তাদের কোনো চেতনা নেই, আত্মা নেই, জীবন নেই। তারা তো শুধু যন্ত্র। যাদের বানিয়েছে মানুষ। যারা সীমাবদ্ধ হার্ডওয়্যার, সার্ভার, ব্যান্ডউইথ আর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে। এখন মানুষ তার বানানো যন্ত্রের মাধ্যমে এত কিছু করতে পারে, এত মানুষের কথা একসাথে শুনতে পারে, তখন সেই মানুষকে সৃষ্টি করেছে যে, যিনি সব মানুষের সৃষ্টিকর্তা — তিনি তো অবশ্যই পারবেন। তার জন্য তো সময়, স্থান, দূরত্ব কিছুই বাধা না। তিনি তো চাইলে প্রতিটি মানুষের মনের কথাও জানেন, এমনকি একজন মানুষ কিছু বলার আগেই তার অন্তরের ইচ্ছেটাও তিনি জানেন। এই ক্ষমতা কোনো যন্ত্রের নেই, কোনো মানুষের নেই, কোনো দেবতারও না। এটা শুধুমাত্র সেই সত্তার, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বত্র উপস্থিত। আমরা যদি একবার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দিকেও তাকাই, তা...