টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পেছনে বৈজ্ঞানিক-অবৈজ্ঞানিক অনেক কারণ নিয়ে আলোচনা আজও শেষ হয়নি। কিছু দৈব কাহিনীও প্রচলিত আছে। তেমনই একটি কাহিনী নিয়ে আজকের আয়োজন
মেয়েটা আর দশটা মেয়ের মতো নয়, অদ্ভুত কিছু অলৌকিক ক্ষমতা ছিল তার। ইংল্যান্ডের এক রাজ্যের এক ছোট্ট গরিব গ্রামে বাস করত মেয়েটা। সময়টা তখন সতের শতকের কোনো এক সাল। সে সময়ে এক রহস্যগল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা আজও এক অধরা রহস্য হয়ে রয়েছে রহস্যপ্রেমীদের মনে।
মেয়েটা যে রাজ্যে বাস করত সে রাজ্য শাসন করতেন এক অত্যাচারী রাজা। খাজনা আদায়ের জন্যে প্রজাদের উপর নানা রকম অত্যাচার করতেন। চাপ প্রয়োগ করে সব গ্রাম থেকে খাজনা আদায় করলেও মেয়েটার গ্রাম থেকে অত্যাচার করে ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করতে পারতেন না। তার কারণ ছিল মেয়েটার অলৌকিক ক্ষমতা। মেয়েটা ভবিষ্যৎ বলতে পারত কিংবা তার অনুমানশক্তি খুব তীব্র এটাও বলা যায়। রাজার সৈন্যরা কখন আক্রমণ করবে মেয়েটা তার অলৌকিক ক্ষমতাবলে আগে থেকে জেনে যেত। সেটা গ্রামবাসীকে বলে দিত। ফলে গ্রামবাসী প্রস্তুত থেকে রাজার সৈন্যদের মোকাবেলা করতে পারত। এ কারণে ওই গ্রামে রাজার সৈনিকদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ হতে লাগল।
ঘটনা জানতে পেরে রাজা সভায় বসলেন সবাইকে নিয়ে। সবাই মত দিল মেয়েটাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সিদ্ধান্ত অনুসারে মেয়েটাকে মেরে ফেলতে গুপ্তঘাতক পাঠানো হল। নিজের উপর বিপদ আসছে এটা বুঝতে পেরে মেয়েটা তার প্রতিবেশীদের জানাল। কিন্তু তাতে বিপদ কাটল না। মেয়েটাকে সব সময় পাহারা দিয়ে রাখা সম্ভব হল না। গুপ্তঘাতক একদিন সুযোগ বুঝে মেয়েটাকে ঠিকই মেরে ফেলল। মেয়েটার কফিন মাটিচাপা দেয়া হল গ্রামের পাশে এক বনে।
মেয়েটা মারা গেল- ঘটনাটা এখানেই শেষ হতে পারত, কিন্তু তা হল না। উল্টোটাও বলা যায়, আসল ঘটনা শুরু হল সেখান থেকে। কিছুদিন পর দেখা গেল যেখানে মেয়েটার কফিন মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল তার চারপাশের বিশাল এলাকা জুড়ে সব ঘাস পুড়ে গেছে। সবাই ভয় পেলেও অবাক হল না। কারণ সবাই জানত মেয়েটা সাধারণ কেউ নয়। তাই কফিন চাপা দেয়া জায়গার দিকে কেউ আর ভয়ে যেত না। এরপর বছরের পর বছর চলে গেল। সবার মুখে মুখে প্রচার হয়ে গেল মেয়েটার কাহিনী।
একশ বছর পর, আঠারো শতকের কোনো এক সময়ে লন্ডনের তিন সাংবাদিক বন্ধু, যারা নাকি মেয়েটার গল্পটা জানতেন, তারা সিদ্ধান্ত নিলেন সেই গ্রামে গিয়ে মেয়েটার কফিন তুলে আনবেন। মেয়েটার রহস্য ভেদ করবেন।
তারা সত্যি সত্যি একদিন সেই গ্রামে গেলেন। মাটি খুঁড়ে যখন মেয়েটার কফিন তুললেন, দেখলেন কফিনের গায়ে হিব্রু ভাষায় লেখা আছে, ‘স্পর্শ করো না’।
তারা কফিনটা শহরে নিয়ে এলেন। তিনজনের মধ্যে একজন কফিনটা রাখলেন নিজের কাছে। এক সপ্তাহ পর দেখা গেল তিনি মারা গেছেন। মানুষের মৃত্যু হতেই পারে, তাই ঘটনাটা সবাই স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর কফিনটা আর এক সাংবাদিক তার বাসায় রাখলেন। কিছুদিন পর তিনিও মারা গেলেন। একইভাবে তৃতীয় সাংবাদিকও মারা গেলেন। তিনজনই যখন মারা গেলেন তখন বিষটি নিয়ে শোরগোল পড়ে গেল। ডাক্তাররা অবাক হয়ে দেখলেন, যার বাসায় কফিন গেছে তিনিই মারা যাচ্ছেন এক অজ্ঞাত রোগে। এরপর ভয়ে কেউ আর কফিনটা নিতে চাননি। স্থানীয় প্রশাসন কফিনটা এক জাদুঘরে রেখে দিল। কিছুদিন পর রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ জাদুঘরটাই পুড়ে গেল, অক্ষত রইল শুধু কফিনটাই।
এ ঘটনার পর প্রশাসন অভিশপ্ত কফিনটা আর নড়াচড়া না করে ওই অবস্থায় রেখে দিয়ে জায়গাটা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে জাদুঘরটা সিলগালা করে দেয়।
এরপর আরও অনেকগুলো বছর চলে গেছে। প্রায় একশত বছর।
উনিশ শতকের শুরু। প্রযুক্তির উৎকর্ষের এ সময়ে বিজ্ঞান সব অলৌকিক ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আমেরিকা সেই অলৌকিক কফিন নিয়ে গবেষণার আগ্রহ দেখিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে কফিনটা চাইল। ব্রিটিশ সরকার কফিনটা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ইংল্যান্ডের রাজকীয় কমান্ডার এডওয়ার্ড জন স্মিথের নেতৃত্বে টাইটানিক নামের ঐতিহাসিক সেই বিশাল জাহাজ ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করে। সে জাহাজেই সেই অভিশপ্ত কফিনটা পাঠানো হয়। তারপরের ইতিহাস তো সবার জানা। যাত্রার মাত্র কয়েক দিন পরই বিশাল এ জাহাজ বরফের এক চাঁইয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। মারা যায়
১৫১৭জন যাত্রী। রহস্যবাদীদের দাবি, টাইটানিক ডুবে যাওয়ার অন্যতম একটা কারণ অভিশপ্ত ওই কফিন। যে কফিনে ছিল সেই রহস্যময় মেয়েটার মৃতদেহ।
এ রিয়াজ
Comments
Post a Comment