Skip to main content

হাবুর অফিস এবং জুতার গল্প । রম্য


হাবু আজ সকাল সকাল নাস্তা খেয়ে জুতা টাইট করে বেধে রওনা হলো অফিসে যাবার জন্যে । তার অফিস ১১ টায় শুরু হবে । সে তড়িঘড়ি করে বের হতে দেরী করে ফেলেছে । এখন সকাল ৭ টা বাজে । নির্ঘাত অফিসে লেট হয়ে যাবে আজ । যাই হোক তাও বের হওয়া গেছে তা নাহলে আজ আর অফিসে যাওয়াই হতো না । গত সপ্তাহে পুরোনো একজোড়া জুতার কারনেই তার অফিসে যাওয়া হয়নি । একটা বিআরটিসি বাস টার্গেট করে লাফ দিতেই জুতা আটকে গেল ম্যানহোলের ঢাকলায় । ব্যাস আর বাসটায় ওঠা গেল না । হাবলু তারপরে আশা ছাড়েনি । আরো দুই ঘন্টা ধরে রাস্তায় ছিলো কিন্তু পরের বাস গুলিকে সে তার টার্গেটে পরিনত করতে পারেনী । তখনি ডিসিশন নিয়েছে আগামি সপ্তাহেই সে নতুন বুট জুতা কিনবে । যে জুতা পরলে টার্গেট করা বাস ফসকে যাবে না । লোকে জুতার মাড়া খেয়ে সরে যাবে । সব জল্পনা কল্পনা শেষে আজ সেই শুভদিন । আজ সে বুট জুতা পরে বের হয়েছে । আজ তাকে রুখবে কে ? সবচেয়ে ভাল হতো জুতার দুপাশে দুটি করে সুচালে দাত রাখতে পারলে । তবে এখন যা আছে তাই বা কম কিসে ।
'বুদ্ধিমান ব্যাক্তি আটকে থাকেনা', এই প্রবাদটি আজকে আবারো সত্যি প্রমানিত হলো । সে প্রায় আধকিলো দুর হতে দেখলো রংচটা লাল রংএর বাসটি কচ্ছপের গতিতে এগিয়ে আসছে । হাবু মনে মনে নিজেকে তৈরী করল । নিজেকে নিজেই বলল , তুমি পারবে হাবু , তোমাকে পারতেই হবে । বাসটি যখন একশ গজ দুরে ঠিক তখনি বুদ্ধি করে হাবু একটি হেব্বি এ্যানার্জি মেশানো স্প্রিড খেয়ে নিল । এখন সে আত্ববিশ্বাসে কানায় কানায় পূর্ন । তার টার্গেট আর মাত্র ৫০ গজ সামনে । হাবলু দৌড় শুরু করল । জুতার কি কেরামতি , আসে পাশের সবাই সরে যাচ্ছে । সে পথ করে নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে যাচ্ছে । ৩ সেকেন্ড এর মধ্যেই হাবলু টেক অফ করতে যাচ্ছে । সে তার টার্গেটে লক্ষ করে লাফ দেবার ঠিক ২ মিলি সেকেন্ড আগে "বাবাগে, গেলামরে । কোন খান***পোলা পায়ে পারা দিলো রে । আমার পাওডা মনে হয় শেষ" জাতীয় একটি বিভ্রান্ত মুলক শব্দ শুনতে পেল । এসবে পাত্তা দিলে চলবে না । সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে হলে এমন অনেক কুটুক্তি শুনতেই হয় । অন্যের ভাল এই সমাজে এখন আর কেউ চোখে দেখতে পারে না । যাক সেসব কখা মোর্দা কথা হলো সে আজ আর তারে টার্গেট মিস করেনি । দিনের প্রথম কাজেই সফলতা । তাও আবার প্রথম চেস্টাতেই । এর চেয়ে ভাল কিছু হতেই পারে না । নির্ঘাত আজ দিনটি তার ভাল যা্বে । সে টার্গেটের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় নিজের জুতা দুটির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল "সাব্বাস জুতার বাচ্চা"
কাজী রায়হান

Comments

Popular posts from this blog

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির সূরা ফাতিহা "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-২ )

  আমাদের এই মহাবিশ্ব শুধু একবার জন্ম নেয়নি, এটা একটার পর একটা চক্রে সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছে। কুরআনে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আমরা দেখতে পাই, এই মহাবিশ্ব চক্রবদ্ধ। আল্লাহ প্রথম মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, সেটি সংকুচিত হয়ে আবার বিস্তৃত হলো—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিগ বাউন্স বা বড় লাফ। এই চক্রগুলো আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথম চক্র ছিল বিগ ব্যাং-১ এর সময়। তখন মহাবিশ্বে শুধু হাইড্রোজেন ছিল, যা পরবর্তীতে হিলিয়ামসহ আরও কিছু হালকা মৌলে রূপান্তরিত হয়েছিল। মহাকাশ তখন একরকম ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে ছিল, যাকে কুরআনে “ধোঁয়া” বলা হয়েছে। আল্লাহ সেখানে মহাকর্ষ বল সংযোজন করলেন, যা মহাবিশ্বকে সঙ্কুচিত করতে শুরু করে। এই সঙ্কোচনের ফলে ভারী মৌল, যেমন সিলিকন তৈরি হয় এবং ধূলিকণা ও গ্রহাণু জমে জমে জমি গঠনে সাহায্য করে। কুরআনে এ ঘটনার বর্ণনা আছে: “আর তিনি আসমান (প্রথম মহাকাশ) সৃষ্টি করলেন ধোঁয়া থেকে; তারপর বল দিলো ‘তুমি এসো একসাথে, ইচ্ছেমতো বা বাধ্য হয়ে।’ তারা বলল, ‘আমরা ইচ্ছেমতো এসেছি।’ ফলে আল্লাহ সাত আসমান তৈরি করলেন।” (সূরা ফুসসিলাত: ১১-১২) এই প্রথম চক্র ছিল একক আসমানবিশিষ্ট মহাবিশ্ব। তবে ...

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-১)"

 এই মহাবিশ্ব, যেখানে আমরা এখন বাস করছি, তা অত্যন্ত নিখুঁত নিয়ম ও সূচনাগত বিন্যাস অনুযায়ী সৃষ্টি হয়েছে। এই সূচনাগত নিখুঁততা ও প্রাকৃতিক নিয়মের কারণে এটি আজকের অবস্থানে এসেছে। পৃথিবীর উপাদান ও যৌগসমূহ এমন সব প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসরণ করে যা পরস্পরের সাথে এত সুন্দরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তা আমাদের জীবনকে টিকিয়ে রাখে। পানির পরিমাণও এখানে বিপুল এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই অনন্য। এসব কিছু আমাদের বোঝায় যে এই মহাবিশ্ব একটি অসাধারণভাবে বুদ্ধিমান সত্তার সৃষ্টি, যিনি আল কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ীই ঈশ্বর। তিনি শুধু সৃষ্টি করেননি, তিনি বিকাশকারকও। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও দার্শনিক চিন্তাধারায় একটি বিকল্প ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যেটিকে বলা হয় মাল্টিভার্স বা বহু-বিশ্ব তত্ত্ব। এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, এমন অসংখ্য বিগ ব্যাং (Big Bang) ঘটতে পারে যার ফলে অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হয় এবং এইসবের মধ্যে কাকতালীয়ভাবে একটি মহাবিশ্ব জীবনের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে। এই ধারনা ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়াই সৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। ফিলোসফিক্যাল আলোচনায় "fine-tuning" বা সূক্ষ্ম-সামঞ্জস্য শব্দটি প্রায়ই ব্যব...

আল্লাহ কিভাবে লক্ষ কোটি প্রাণীর ফরিয়াদ একসাথে শুনেন?

  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।  এক গুগল যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, এক চ্যাটজিপিটি যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের কথা শুনতে পারে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তাদের অনুভূতি বুঝে নিতে পারে, তাহলে একজন সৃষ্টিকর্তা কেন পারবেন না? গুগল কি মানুষ? না। চ্যাটজিপিটি কি মানুষ? না। তাদের কোনো চেতনা নেই, আত্মা নেই, জীবন নেই। তারা তো শুধু যন্ত্র। যাদের বানিয়েছে মানুষ। যারা সীমাবদ্ধ হার্ডওয়্যার, সার্ভার, ব্যান্ডউইথ আর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে। এখন মানুষ তার বানানো যন্ত্রের মাধ্যমে এত কিছু করতে পারে, এত মানুষের কথা একসাথে শুনতে পারে, তখন সেই মানুষকে সৃষ্টি করেছে যে, যিনি সব মানুষের সৃষ্টিকর্তা — তিনি তো অবশ্যই পারবেন। তার জন্য তো সময়, স্থান, দূরত্ব কিছুই বাধা না। তিনি তো চাইলে প্রতিটি মানুষের মনের কথাও জানেন, এমনকি একজন মানুষ কিছু বলার আগেই তার অন্তরের ইচ্ছেটাও তিনি জানেন। এই ক্ষমতা কোনো যন্ত্রের নেই, কোনো মানুষের নেই, কোনো দেবতারও না। এটা শুধুমাত্র সেই সত্তার, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বত্র উপস্থিত। আমরা যদি একবার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দিকেও তাকাই, তা...