Skip to main content

প্রকৃতি ও অপারেটিং সিস্টেম: সৃষ্টিকর্তার ডিজাইন ও নিয়ন্ত্রণে সৃষ্টির রহস্য

 

প্রকৃতি আসলে একটি অপারেটিং সিস্টেমের মতো — যেমন Windows, Mac, বা Linux। এই অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল দুনিয়া তৈরি হয়, যেখানে রয়েছে ভিডিওর জগৎ, সিস্টেমের জগৎ, অ্যানিমেশনের জগৎ — এক কথায়, একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড। এই ডিজিটাল দুনিয়ার প্রতিটি কার্যক্রমই নিয়ন্ত্রণ করে সেই অপারেটিং সিস্টেম।


যেমন, অপারেটিং সিস্টেমে হাজার হাজার সফটওয়্যার থাকে। একইভাবে প্রকৃতিতেও রয়েছে লক্ষাধিক প্রাণী ও বস্তুর সমন্বয়। প্রতিটি সফটওয়্যার যেমন অপারেটিং সিস্টেমের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে, তেমনই প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে পরিচালিত হয়।


এখন কেউ যদি বলে, এই অপারেটিং সিস্টেমগুলো এমনি এমনি তৈরি হয়েছে এবং এর কোনো নির্মাতা নেই — তাহলে সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জালিম ও বোকা। যেমন কেউ যদি বলে, Windows বা Mac অপারেটিং সিস্টেম আপনা-আপনি তৈরি হয়ে গেছে এবং এর পেছনে কোনো প্রতিষ্ঠাতা নেই, তাহলে সে বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।


উদাহরণস্বরূপ, Windows 95 আর Windows 11-এর পার্থক্য দেখুন। Windows 95 ছিল একটি প্রাথমিক সংস্করণ, যেখানে সীমিত ফিচার ছিল। আর Windows 11 হলো আধুনিক এক অপারেটিং সিস্টেম, যা হাজার গুণ উন্নত, শক্তিশালী এবং নিরাপদ। কেউ যদি দাবি করে, এই উন্নত সংস্করণগুলো শুধুমাত্র বিবর্তনের মাধ্যমে আপনা-আপনি তৈরি হয়েছে, তাহলে সে উইন্ডোজের প্রকৃত নির্মাতা মাইক্রোসফট এবং এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে অস্বীকার করছে।


উইন্ডোজের প্রতিটি আপডেটের পেছনে রয়েছে ডেভেলপারদের কঠোর পরিশ্রম এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনা। এটাই বাস্তবতা। যেমন, প্রকৃতি নিজে নিজে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে এক পরম স্রষ্টা — যিনি প্রতিনিয়ত নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং সঠিক সময়ে সিস্টেম আপডেট করছেন।


যদি কেউ প্রকৃতির এই অপারেটিং সিস্টেমের স্রষ্টাকে অস্বীকার করে, তবে সে বোকামির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কারণ, কোনো কিছুই আপনা-আপনি সৃষ্টি হতে পারে না। যেমন, কোনো অপারেটিং সিস্টেম নিজে থেকে তৈরি হয় না। একজন প্রোগ্রামার থাকেন, যিনি সেই সিস্টেমকে ডিজাইন করেন, নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সময়ের সাথে সাথে উন্নত করেন।


ঠিক তেমনই, সৃষ্টিকর্তা আছেন এবং তিনিই প্রকৃতির প্রতিটি কণা ও নিয়মের স্রষ্টা ও পরিচালক।


সোহেল রানা 

ময়মনসিংহ

Comments

Popular posts from this blog

দাব্বাতুল আরদ ও আধুনিক এআই: কুরআনের ভবিষ্যদ্বাণীর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

অনেকেই বলে থাকেন, কোরআনের মধ্যে নাকি সবকিছু রয়েছে। তখন প্রশ্ন আসে—কম্পিউটার বা মোবাইলের কথা কোরআনে কোথায় বলা হয়েছে? আসলে কোরআন কোনো সায়েন্সের বই নয়, তবে কোরআনে সাইন রয়েছে, গবেষণার অসংখ্য বিষয় রয়েছে। আমি একজন সত্য অনুসন্ধানী হিসেবে দেখতে চাই কোরআন দিয়ে প্রমাণ করা যায় কিনা যে কম্পিউটারের বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত আছে কিনা। আমরা জানি, হযরত মুসা (আ.) এর যুগ ছিল যাদুবিদ্যার যুগ, তাই তাঁকে আল্লাহ যাদুর জবাব দেওয়ার মতো অলৌকিক মুজিজা দিয়েছিলেন। হযরত ঈসা (আ.) এর যুগ ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগ, তাই তাঁকে দেওয়া হয়েছিল অলৌকিক চিকিৎসার ক্ষমতা। আর আমাদের যুগ হচ্ছে বিজ্ঞানের যুগ। সুতরাং কোরআনকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, না হলে কোরআনকে অনেকে মিথ্যা বলবে। আর এজন্যই বিজ্ঞানের হাজারেরও বেশি সাইন কোরআনে রয়েছে, যেগুলা শতভাগ প্রমাণিত হয়েছে। এখন আসি কম্পিউটারের ব্যাপারে। কোরআনে বলা হয়েছে— ‘‘যখন প্রতিশ্রুতি (কিয়ামত) নিকটবর্তী হবে তখন আমি তাদের সামনে ভূগর্ভ থেকে একটি প্রাণী নির্গত করব। সে মানুষের সাথে কথা বলবে এবং বলবে যে, মানুষ আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করত না’’ (সূরা নামল 27:82...

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির সূরা ফাতিহা "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-২ )

  আমাদের এই মহাবিশ্ব শুধু একবার জন্ম নেয়নি, এটা একটার পর একটা চক্রে সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছে। কুরআনে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আমরা দেখতে পাই, এই মহাবিশ্ব চক্রবদ্ধ। আল্লাহ প্রথম মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, সেটি সংকুচিত হয়ে আবার বিস্তৃত হলো—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিগ বাউন্স বা বড় লাফ। এই চক্রগুলো আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথম চক্র ছিল বিগ ব্যাং-১ এর সময়। তখন মহাবিশ্বে শুধু হাইড্রোজেন ছিল, যা পরবর্তীতে হিলিয়ামসহ আরও কিছু হালকা মৌলে রূপান্তরিত হয়েছিল। মহাকাশ তখন একরকম ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে ছিল, যাকে কুরআনে “ধোঁয়া” বলা হয়েছে। আল্লাহ সেখানে মহাকর্ষ বল সংযোজন করলেন, যা মহাবিশ্বকে সঙ্কুচিত করতে শুরু করে। এই সঙ্কোচনের ফলে ভারী মৌল, যেমন সিলিকন তৈরি হয় এবং ধূলিকণা ও গ্রহাণু জমে জমে জমি গঠনে সাহায্য করে। কুরআনে এ ঘটনার বর্ণনা আছে: “আর তিনি আসমান (প্রথম মহাকাশ) সৃষ্টি করলেন ধোঁয়া থেকে; তারপর বল দিলো ‘তুমি এসো একসাথে, ইচ্ছেমতো বা বাধ্য হয়ে।’ তারা বলল, ‘আমরা ইচ্ছেমতো এসেছি।’ ফলে আল্লাহ সাত আসমান তৈরি করলেন।” (সূরা ফুসসিলাত: ১১-১২) এই প্রথম চক্র ছিল একক আসমানবিশিষ্ট মহাবিশ্ব। তবে ...

নাস্তিক ইমরান বশির এর ফালতু যুক্তি খন্ডন

 আমার এক বড় ভাই হঠাৎ করে নাস্তিক হয়ে গেল। আমিতো দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম কারণ সে যে বইগুলো পড়ে নাস্তিক হয়ে গিয়েছিল সবগুলা বই ভালো করে পড়েছি। মূলত তার লাইব্রেরী ছিল আমার অবসরের সঙ্গী দিনরাত ওইখানে পড়ে থাকতাম। তার অসাধারণ সব কালেকশন ছিল বিশেষ করে হুমায়ূন আহমেদের। আমি অবাক হয়ে গেলাম একই বই পড়ে সে নাস্তিক হয়ে গেল আর আমার বিশ্বাস বৃদ্ধি পেল। তখন সে একটা লজিক দেখাতো কোন সৃষ্টিকর্তা এর দরকার নেই সবকিছু এমনি এমনি তৈরি হয় উদাহরণস্বরূপ পানি কিছুদিন রাখলে সেখানে অটোমেটিক কিছু প্রাণী সৃষ্টি হয়, আজকেও সেম একটা উদাহরণ পেলাম নাস্তিক ইমরান bashir  যে নাকি হুজুর থেকে নাস্তিক হয়েছে সে বলতেছে মানুষ পায়খানা করলে অটোমেটিক কিছু পোকা তৈরি হয় এর জন্য সৃষ্টি কর্তা দরকার নাই। তো আজকে এ ব্যাপারে একটা জবাব লিখতেই হবে,  দেখা যাক নাস্তিকদের যুক্তি: “আপনি যদি একটি পাত্রে পানি রাখেন কয়দিন, সেখানে ছোট ছোট প্রাণী (যেমন অ্যামিবা বা আর্থ্রোপড) দেখা দেয়। এটিই প্রমাণ যে জীবন স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মায় এবং স্রষ্টা প্রয়োজন নেই।”  এই থিওরি এর নাম spontaneous generation , যেটা বিজ্ঞান ইতিমধ্যেই ...