পৃথিবী একটা অনন্য গ্রহ। সৌর জগতের আর আটটা গ্রহের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই বিষয়টি পরিস্কার হবে। পৃথিবীর সাথে সবচাইতে সাদৃশ্যপূর্ণ মঙ্গল গ্রহকেই বিবেচনা করা যাক। পৃথিবী বিভিন্ন আগ্নেয়গীরির মাধ্যমে তার অভ্যন্তরের তাপ নির্গমন করে কিন্তু মঙ্গল গ্রহে সেরকম কোন ব্যবস্থা নেই। গ্রহটির ত্বক পাতলা হলে সেটা তার সম্পূর্ণ দেহ ব্যাপী তাপ বিকিরণ করে গ্রহটির ত্বক মোটা হলে সেটা বহুকাল পর পর বিস্ফোরিত হয়ে তাপ বিকিরণ
করে । সেখানে কোন পানি নেই, মেঘের মত যা দেখা যায় তা হল সালফিউরিক এসিডের মেঘ। সারা মঙ্গল গ্রহ ব্যাপী সুসমভাবে বিন্যস্ত ক্র্যাটার (উল্কাপাতের ফলে সৃষ্ট গর্ত) প্রমান করে বিগত ৫০০ মিলিয়ন বৎসরে মঙ্গলগ্রহের ভূমির কোন পরিবর্তন হয়নি; পৃথিবীর মত প্লেট টেকটোনিক্স্ সেখানে নেই। কিন্তু বিগত ৫০০ মিলিয়ন বৎসরে পৃথিবীর যে পরিবর্তন হয়েছে তার তালিকা প্রস্তুত করলে
দেখা যাবে পৃথিবীকে সুপরিকল্পিতভাবে মানুষের বসবাসের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে। কিভাবে পৃথিবীকে মানুষের জন্য উপযুক্ত করা হয়েছে সেটাই প্রথম আলোচনা করব।
এছাড়া কুরআনের কিছু কিছু আয়াতে পৃথিবী সম্বন্ধে বলা হয়েছে। অনেকে ভুলবশত এসব আয়াতকে মহাবিশ্ব সংক্রান্ত আয়াতের সাথে মিশিয়ে ফেলেন। এজন্যও পৃথিবী সম্বন্ধে এ পর্যায়ে কিছুটা আলোচনা প্রয়োজন ।
ভূমি প্রসারণ
“তিনিই যমীনকে জীবের জন্য প্রসারিত করিয়া দিয়াছেন। তাহাতে ফল এবং কাদিসহ খেজুরের গাছ আছে আর তুষযুক্ত শস্য ও সুগন্ধ পুষ্প রহিয়াছে” -আল কুরআন ৫৫ : (১০-১২)
মানুষ ও মহাবিশ্ব
বৈজ্ঞানিকগণ পৃথিবীর যমীন বা ভূমির প্রসারণের কথা প্রথম বুঝছে পেরেছেন ১৬২০ সালে। বৃটিশ দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকন ১৬২০ সালে প্রথম মহাদেশগুলির সরে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে এ তত্ত্বের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। একে ‘থিওরী অব প্লেট টেকটোনিক্স্' বলা হয় ।
মহাদেশগুলির আকার দেখলে বোঝা যায় এগুলো কোন এক কালে একত্রিত ছিল (চিত্র ৭)। যেমন, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্বের উঁচু ভি (V) আকৃতির অংশ দেখলে বোঝা যায়, এটা কোন এককালে আফ্রিকার পশ্চিমের ইউ (U) আকৃতির কাটা অংশে ঢোকানো ছিল । সবগুলি মহাদেশকে কাছে আনলে যেন খাপে খাপে মিলে যাবে । তাহলে আমরা বলতে পারি যমীন একসাথে ছিল, পরে তা প্রসারিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রসারণের ফলে কি লাভ হয়েছে ? কিম্বা যদি প্রশ্ন করা যায়, প্রসারণ না হলে কি ক্ষতি হত ? যমীন যদি সাত খন্ডে (সাত মহাদেশে) বিভক্ত না হত;
যদি একসাথে লেগে থাকত, তাহলে সমুদ্র থেকে ভূঅঞ্চলের মধ্যভাগের দূরত্ব হত অনেক বেশি। মধ্যভাগ থেকে পানির দূরত্ব অনেক বেশী হওয়ায় পৃথিবীতে মরুভূমির পরিমাণ হত অনেক বেশী। উর্বরা অঞ্চলের পরিমাণ হত অনেক কম। যমীন প্রসারিত হওয়ার কারণে মহাদেশগুলির সৃষ্টি হয়েছে । মূল বৃহৎ ভূখন্ড
৭টি ছোট খন্ডে (৭টি মহাদেশ) বিভক্ত হয়ে মহাসমুদ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অধিক পরিমাণ (ভূখন্ডের) কিনারা সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এসেছে এবং মাটির নীচের পানির লেভেল (Underground Water Level) উপরে উঠেছে। এর ফলে উর্বরা অঞ্চলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া ভূঅঞ্চলের প্রসারণের ফলে পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে, আর পর্বতমালা থেকে নদী সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায় পৃথিবীকে ফুলে ফলে ভরে তোলার জন্য প্রসারণের দান অতুলনীয় ।
“এবং তারপর তিনি যমীনকে বিছাইয়া দিয়াছেন। তিনি তাহা হইতে পানি ও গাছপালা জন্মাইয়াছেন এবং তাহাতে পর্বত সকল স্থাপন করিয়াছেন ।তোমাদের ও তোমাদের পশুগুলির লাভের জন্য তাহা করিয়াছি।”
--আল কুরআন ৭৯ : (৩০-৩৩)
সোহেল রানা
কার্টেসি : বই:- মানুষ ও মহাবিশ্ব, লেখক - মেজর জাকারিয়া কামাল ।

Comments
Post a Comment