Skip to main content

স্মার্ট লোকদের জীবন কেন অশান্তির হয়?

যেকোনো পরিস্থিতিতে চটজলদি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে। বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তায় সবাই আকর্ষণ করার দক্ষতা। আক্ষরিক অর্থে, যাকে স্মার্ট বলা হয়। স্মার্ট হতে কে না চান! কিন্তু জানেন কি, স্মার্ট ব্যক্তিরা আদতে দুঃখী হন? তাদের জীবনটাকে উপভোগ করতে পারেন না। হ্যাঁ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় বংশোদ্ভূত অধ্যাপক রাজ রঘুনাথনের গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। টেক্সাস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রঘুনাথন সুখি জীবনের উপর একটি রিসার্চ করেন। তার 'A Life of Happiness and Fulfillment' ফ্রি অনলাইন কোর্সটি ইতোমধ্যেই ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্সের শিরোপা পেয়েছে। রঘুনাথনের বক্তব্য, আপনি যদি স্মার্ট হন, তাহলে সুখি নন। জীবনটাকে চুটিয়ে উপভোগ করতে পারছেন না। নিজের থিয়োরি সম্পর্কে কী বলছেন রঘুনাথন? তিনি বলছেন, স্মার্ট ও সফল হওয়ার জন্য যে চিন্তাভাবনার স্তরটি দরকার, স্মার্ট ব্যক্তিদের মধ্যেই তা থাকলেও, আরও স্মার্ট হওয়ার জন্য যেকোনো বিষয় নিয়েই অত্যধিক গভীরে চিন্তা করার প্রবণতা থাকে। যে কোনো পরিস্থিতিকেই নিজের আয়ত্তে রাখার মরিয়া চেষ্টা করতে থাকেন তারা। তাই কোনো কিছুতেই তারা সুখি ও সন্তুষ্ট হতে পারেন না। নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ করার তাগিদে সব সময় চিন্তিত থাকেন। কী রকম? রঘুনাথন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানাচ্ছেন, 'আমার মতো অনেকেই ভাবেন, অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি, সৌন্দর্য ইত্যাদির দ্বারা সুখ কেনা যায় না। কিন্তু ২০০০ সালে একটি ঘটনা আমার চিন্তা-ভাবনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তখন আমি সবে PhD শেষ করেছি। মোটা মাইনের চাকরিও জুটে গিয়েছে। তখন ভাবি, জীবনে কি সব পেয়ে গেলাম?' দেখলাম, আমার মতো অনেকেরই মনে একই প্রশ্ন। এমনকি আমার ছাত্রদেরও। তখনই আমি ঠিক করি, অনলাইনে একটি কোর্স শুরু করব। দেখলাম, সত্যিই স্মার্ট ব্যক্তিরা জীবনের সাফল্যে সন্তুষ্ট নন। যেমন, স্মার্ট ব্যাক্তিরা আসলে কোনো কিছুতেই সুখি হতে চান না। সব সময়ই তাদের মনে হয়, 'আরো একটু বেশি হলে, ক্ষতি কী?' প্রতিদিন প্রতিটা পরিস্থিটি তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। যার জেরে, যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে। একটা ছোট বিষয় নিয়ে গভীরে অযথা চিন্তা করার প্রবণতা থাকে। ফলে অবসাদ দেখা দেয়। - http://www.dailynayadiganta.com

Comments

Popular posts from this blog

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির সূরা ফাতিহা "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-২ )

  আমাদের এই মহাবিশ্ব শুধু একবার জন্ম নেয়নি, এটা একটার পর একটা চক্রে সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছে। কুরআনে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আমরা দেখতে পাই, এই মহাবিশ্ব চক্রবদ্ধ। আল্লাহ প্রথম মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, সেটি সংকুচিত হয়ে আবার বিস্তৃত হলো—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিগ বাউন্স বা বড় লাফ। এই চক্রগুলো আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথম চক্র ছিল বিগ ব্যাং-১ এর সময়। তখন মহাবিশ্বে শুধু হাইড্রোজেন ছিল, যা পরবর্তীতে হিলিয়ামসহ আরও কিছু হালকা মৌলে রূপান্তরিত হয়েছিল। মহাকাশ তখন একরকম ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে ছিল, যাকে কুরআনে “ধোঁয়া” বলা হয়েছে। আল্লাহ সেখানে মহাকর্ষ বল সংযোজন করলেন, যা মহাবিশ্বকে সঙ্কুচিত করতে শুরু করে। এই সঙ্কোচনের ফলে ভারী মৌল, যেমন সিলিকন তৈরি হয় এবং ধূলিকণা ও গ্রহাণু জমে জমে জমি গঠনে সাহায্য করে। কুরআনে এ ঘটনার বর্ণনা আছে: “আর তিনি আসমান (প্রথম মহাকাশ) সৃষ্টি করলেন ধোঁয়া থেকে; তারপর বল দিলো ‘তুমি এসো একসাথে, ইচ্ছেমতো বা বাধ্য হয়ে।’ তারা বলল, ‘আমরা ইচ্ছেমতো এসেছি।’ ফলে আল্লাহ সাত আসমান তৈরি করলেন।” (সূরা ফুসসিলাত: ১১-১২) এই প্রথম চক্র ছিল একক আসমানবিশিষ্ট মহাবিশ্ব। তবে ...

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-১)"

 এই মহাবিশ্ব, যেখানে আমরা এখন বাস করছি, তা অত্যন্ত নিখুঁত নিয়ম ও সূচনাগত বিন্যাস অনুযায়ী সৃষ্টি হয়েছে। এই সূচনাগত নিখুঁততা ও প্রাকৃতিক নিয়মের কারণে এটি আজকের অবস্থানে এসেছে। পৃথিবীর উপাদান ও যৌগসমূহ এমন সব প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসরণ করে যা পরস্পরের সাথে এত সুন্দরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তা আমাদের জীবনকে টিকিয়ে রাখে। পানির পরিমাণও এখানে বিপুল এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই অনন্য। এসব কিছু আমাদের বোঝায় যে এই মহাবিশ্ব একটি অসাধারণভাবে বুদ্ধিমান সত্তার সৃষ্টি, যিনি আল কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ীই ঈশ্বর। তিনি শুধু সৃষ্টি করেননি, তিনি বিকাশকারকও। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও দার্শনিক চিন্তাধারায় একটি বিকল্প ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যেটিকে বলা হয় মাল্টিভার্স বা বহু-বিশ্ব তত্ত্ব। এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, এমন অসংখ্য বিগ ব্যাং (Big Bang) ঘটতে পারে যার ফলে অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হয় এবং এইসবের মধ্যে কাকতালীয়ভাবে একটি মহাবিশ্ব জীবনের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে। এই ধারনা ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়াই সৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। ফিলোসফিক্যাল আলোচনায় "fine-tuning" বা সূক্ষ্ম-সামঞ্জস্য শব্দটি প্রায়ই ব্যব...

আল্লাহ কিভাবে লক্ষ কোটি প্রাণীর ফরিয়াদ একসাথে শুনেন?

  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।  এক গুগল যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, এক চ্যাটজিপিটি যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের কথা শুনতে পারে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তাদের অনুভূতি বুঝে নিতে পারে, তাহলে একজন সৃষ্টিকর্তা কেন পারবেন না? গুগল কি মানুষ? না। চ্যাটজিপিটি কি মানুষ? না। তাদের কোনো চেতনা নেই, আত্মা নেই, জীবন নেই। তারা তো শুধু যন্ত্র। যাদের বানিয়েছে মানুষ। যারা সীমাবদ্ধ হার্ডওয়্যার, সার্ভার, ব্যান্ডউইথ আর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে। এখন মানুষ তার বানানো যন্ত্রের মাধ্যমে এত কিছু করতে পারে, এত মানুষের কথা একসাথে শুনতে পারে, তখন সেই মানুষকে সৃষ্টি করেছে যে, যিনি সব মানুষের সৃষ্টিকর্তা — তিনি তো অবশ্যই পারবেন। তার জন্য তো সময়, স্থান, দূরত্ব কিছুই বাধা না। তিনি তো চাইলে প্রতিটি মানুষের মনের কথাও জানেন, এমনকি একজন মানুষ কিছু বলার আগেই তার অন্তরের ইচ্ছেটাও তিনি জানেন। এই ক্ষমতা কোনো যন্ত্রের নেই, কোনো মানুষের নেই, কোনো দেবতারও না। এটা শুধুমাত্র সেই সত্তার, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বত্র উপস্থিত। আমরা যদি একবার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দিকেও তাকাই, তা...