Skip to main content

কিংবদন্তি নেতা যাযাবর সন্তান সুলতান সুবক্তগীন

হাজার বছর পেরিয়ে গেছে,এরই মধ্যে পৃথিবীতে ঘটে গেছে কতইনা ঘটনা.কত বিবর্তন । কতো রাজা মহা রাজার দুঃশাসন সুশাসন দেখেছে প্রাচ্য এশিয়ার জমিন । এখান কার মাটিতে কত বনি আদমের খুন মিসে আছে তার কোনো ইয়াত্তা নেই । কত আদম সন্তান এক আল্লাহর ইবাদতকারী বহু দেবপূজারী মূর্তিপূজকের নির্যাতনে নিপিষ্ট হয়েছে তার নেই কোনো সঠিক পরিসংখ্যান । কিন্তু একটি কথা ইতিহাসে চিরসমুজ্জল…..মূর্তি ভাঙ্গার ইতিহাস ।
পৌত্তলিকদের মনগড়া ইতিহাস,মিথ্যা স্বর্গ ভেঙ্গেচুরে মহাজগতে সত্য ও প্রকৃত স্রষ্টা মহান আল্লাহর প্র্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ।
আর এই ইতিহাসের অন্যতম এক কিংবদন্তি নায়ক “সুবক্তগীন” 

আমরা কজনই বা জানি এই মহান মানুষটির কথা ? যিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য মৃত্যুর আগ প্রযন্ত লড়াই করে গেছেন ।
তিনি ৯৪২ খ্রিঃ (সম্ভবত) জন্মগ্রহন করেন ।তার পিতার নাম “আল-হাকাম” ।

সত্য কে সত্য আর মিখ্যা কে মিথ্যা এবং সমাজের সাধারন মানুষের শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অনড় ।মহৎ এই ব্যক্তিটি কোনো রাজার পুত্র ছিলেন না । ছিন্নমূল যাযবর পরিবারে জন্ম তাঁর । যাযবর হলেও তাঁর বাবা-মা ছিলেন ইসলামের প্রতি প্রবল আত্ববিশ্বাসি ও জ্ঞানী । শিশু বেলায় বাবা মায়ের কাছেই সে কুরআন পড়া শিখেছেন ।

সুবক্তগীন ছোট বেলা থেকেই ছিলেন খুব মেধাবী এবং ভবিষৎ নিয়ে চিন্তাধারী । তাঁর বুদ্ধিমত্তা দেখে তাঁর উস্তাদরা ও খব মুগ্ধ হতেন ।যখন তার বয়স ১০-১১ ,তখন একদিন তার উস্তাদকে সুবক্তগীন প্রশ্ন করল 
“উস্তাদজী,আমল ছাড়া এলেম কি পূর্নতা পায় ?তরবারীর জোরে আল্লাহর রাসুল (স.) এর পয়গামের প্রসার ঘটানো কি জায়েয” ?
তখন তার বাবা কে ডেকে উস্তাদ পরমর্শ দিলেন,যেনো তাকে নিয়ে সে বুখারা যায় । এবং এক বিজ্ঞ আলেমের কাছে সে একটি চিঠি লিখে দিলো । কিন্তু যাওয়ার পথে ডাকাতের আক্রমনে তার বাবা মারা গেলেন এবং তাকে ডাকাত দল তুলে নিয়ে গেলেন । 

বুখারার এক জমিদার হাজী নসর তার কাছে বিক্রি করা হলো সুবক্তগীন কে । শুরু হলো তার গোলামির জিবন ।
সুবক্তগীন কে ঘরে আনার পরে চুপচাপ থাকতে দেখে নসর জিজ্ঞাসা করলো সবাই কাঁদছে,তুমি কাঁদছো না কেনো ?
তথন সুবক্তগীন বলল,আগে বলুন আপনি কে ? আপনার ধর্ম কি ?
আমি হাজী নসর, ইসলাম আমার ধর্ম । 
তাহলে তো আমার নয় আপনার রোদন করার উচিত ।আপনার হজ্জ অর্থহীন । কুরআনের নির্দেশ হলো “মানুষ মানুষকে গোলাম বানাতে পারে না।

এসব কথা শুনে নসর অবাক হয়ে গেলেন ।এবং তাকে গোলাম হিসেবে না রেখে ছেলের মত করে রাখলেন । তার গৃহ শিক্ষকের দারা সে শিক্ষা নিতে লাগলেন ।মাত্র তিন বছরে সে পরিপূর্ন যোদ্ধায় পরিনতো হলেন ।

বুখারার গভর্ণর আলপ্তগীন তার শিক্ষা,দিক্ষা এবং দক্ষতা দেখে তাকে নসরের কাছ থেকে উচ্চ দামে কিনে নিলেন । এবং তার সহচর্চায় রাখলেন । এই আলপ্তগীন ও অমুসলীম ছিলেন । ইসলামের কথা শুনে শুনে মুসলমান হয়েছেন ।
তিনি সুবক্তগীন কে বললেন, ইসলাম বলে “মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নাই,কে্উ কারো প্রভু অথবা গোলাম নয়, টাকায় বিক্রি হওয়ার পণ্য মানুষ নয় ।আল্লাহর জমিনে আল্লাহর প্রতিনধিত্ব করবে মানুষ ।নিজের মর্জিমত মানুষের উপার প্রভুত্ব করার অধিকার কোনো শাসকের নেই ।’’

তাই তুমি আমাকে তোমার প্রভু মনে করবে না । আস্তে আস্তে সুবক্তগীন গভর্ণারের খুব কাছের মানুষ হয়ে ওঠেন ।
গজনির শাসক আব্দুল মালেক মৃত্যু বরন করলে অনেক চেষ্টা করেও তার কনিষ্ট পুত্রকে গদিনশীন করতে পারেনী তারা । যার জন্য দুদিন পরে তারা তিনশত সন্যৈর একটি দল নিয়ে তারা গজনী গেলো এবং নতুন গদিনশীন মনসুর কে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করল ।
এবং ৯৬২ খ্রিঃ আলপ্তগীন ক্ষমতা দখল করেন ।
এবং সুবক্তগীন প্রধান উজির নিজুক্ত হন । পরের বছর তিনি ইন্তেকাল করলে তার ছেলে ইসহাক স্থলাভিষিক্ত হন ।কিন্তু তার শাসন ব্যবস্থায় রাজ্যে অশান্তি দেখা দেয় ।তাই বাধ্য হয়ে সুবক্তগীন তাকে বন্দিকরে এবং ক্ষমতা দখল করে । এতে আবার রাজ্যে শান্তি ফিরে আসে । প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামের বিধান অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা ।

একবার পাঞ্জাবের রাজা জয়পাল গজনী আক্রমন করতে এলে সুবক্তগীনের বাহিন তাকে শহরের বাইরেই মোকাবেলা করতে বাধ্য করে । এবং ডজন ডজন হতি, হাজার হাজার অশ্বারোহী-যোদ্ধা ও তোপ কামান নিয়েও সুবক্তগীনের কাছে হেরে যায় ।

কিন্তু এই অপমানের প্রতিশোধ নিতে জয়পাল আবার আক্রমনের ছক আকা শুরু করলো ।

আবার এদিকে সুবক্গীন কে পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করার জন্য একজোট হলো ছোট ছোট রাজ্যের মুসলিম রাজারা। যার কারনে, তাকে একদিকে যেমন হিন্দুদের আক্রমন তাকে ঠেকাতে হতো তেমনী সার্থঅন্নেসী মুসলমানদের ও কুচক্র ও তাকে ঠেক দিতে হতো ।

সুবক্তগীন সব সময় ঐসব মুসলসান রাজাদের আহব্বান করতো ,যাতে করে তারা একবদ্ধ হয়ে ইসলাম প্রচার করে । কিন্তু তারা তার কথা কেউ শুনতো না । একবার তো তারা যুদ্ধের মুখোমুকি ও হয়েছিলো । 

তখন দুঃখ ভরা ক্রান্ত হৃদয় আর চোখে পানি দেখে ছেলে মাহমুদ প্রশ্ন করলো “আব্বা আপনার চোখে পানি”?

তখন সুভক্তগীন বললো ,ইসলামের কফিনের সামনে দারিয়ে চোখের পানি জরানো ছাড়া আর কি করতে পারি ? “মুসলমানরা যখন ঐক্যবদ্ধ ছিলো ইউরোপ-কুফরীস্তানেও তার ইসলামের বিজয়ের কেতন উড়াতে সক্ষম হয়েছিলো ।মুসলমানের অনৈক্যের কারনে ইউরোপ থেকে আজ ইসলাম নির্বাসিত ।হিন্দুস্থানেও ইসলামের ঝন্ডা আজ ভুলন্ঠিত । বহু মুসলিম দেশ খৃস্টানরা দথল করে নিয়েছে,আরো দখলের চেষ্টা করছে ।অপরদিকে হিন্দুরাও আগ্রসন অব্যাহত রেখেছে । তোমাদের দেখে আমার চোখে পানি এসেছে এই ভেবে যে আমরা তো পরস্পর লড়াই করে একদিন শেষ হয়ে যাবো । তোমাদের জন্য কি রেখে যাচ্ছি ।আমরা তো তোমাদের জন্য পতিত এক ইসলামী সালতানাত রেখে যাচ্ছি । ক্ষমতার লোভে,গৃহ বিবাদ আর ঈমান কেনা বেচার বাজার আজ সরগম । ঐসব ঈমান বিক্রেতা,ক্ষমতালিপ্সুর সন্তানেরা ক্ষমতার লোভে ইসলামের শত্রুদের হাতে নিজেদের ঈমান-ইজ্জাত বিক্রি করতে মোটেও দ্বিধা করবে না । কুফরীস্তানের মূর্তি ভাঙ্গা ছিলো আমার দায়িত্ব ।বাতিল বিরোধী সংগ্রামের দায়িত্ব তোমাদের হাতে সোপর্দ করতে চেয়েছিলাম ।কিন্তু আমার মুসলিম ভাইয়েরা- আমরা যারা একই খোদা কা’বা একই কুরইনের আদর্শে চলি- একই রাসূল (স.) এর আনুগত্য করি তারাই আজ আল্লাহর পথ ভুলে বসছি ।বাব !মুসলিস মল্লাতের ভবিষৎ অন্ধকার ।ক্ষমতা আর মসনদের লোভ আর মদ ও ময়েতে ডুবে গিয়ে ওরা মুসলিম জাহান কে টুকরো টুকরো করছে ।তোমরা দেখতে পাচ্ছো, প্রত্যেক মুসলিম রাজ্যে অবিশ্বাস,বিবাদ,প্রতারোনা কিভাবে বিস্তার ঘটছে ।বর্তমান মুসলমানরা দৃশ্যত ঐক্যবদ্ধ হলেও এদের মনে প্রতারোনার বীজ সুপ্ত রয়েছে ।একে অন্যের প্রতি এরা ভীষন অসহিষ্ঞু । এরা মত ভিন্যতাকে ও মনে করে শত্রুতা ।এরা শুভাকাঙ্ক্ষীকেও সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে । আমাদের উচুমহল থেকে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নির্বাসিত হয়ে গেছে ।খেলাফত আছে নামে মাত্র ।

কিন্তু সেই যুদ্ধের সেনাপতি “দারা” ন্যয়ের পথিক ছিলো বিধায় সে সুবক্তগীনের কাছে এসে তার তরবারী সুবক্তগীনের পায়ে কাছে রাখে এবং উল্টো ঐসব রাজা দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে । এবং আবার তারা জয়লাভ করে ।
এভাবেই সুভক্তগীন ন্যয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আবার শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলো ।
আস্তে আস্তে সুলতান অসুস্থ হয়ে পরতে থাকে এবং ৯৯৭ সালের আগষ্ট মোতবেক ৩৮৭ হিজরী সনের শ’বান মাসে ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন এই মহা নায়ক ।
তারই পুত্র সুলতান মাহমুদ গাজনবী,,,যিনি ইতিহসের আর এক মহা নায়ক । বাবার আদর্শ নিয়ে বড় হওয়া এই বীর সৃষ্টি করেগেছেন আর এক ইতিহাস । তা হয়তো অনেকেরই জানা আছে ।

ইতিহাস এই ইসলামের বীরকে তার কাজের জন্য শ্রদ্ধা ভরে শ্বরন করবে ।

Source:http://www.somewhereinblog.net/blog/mamunakon

Comments

Popular posts from this blog

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির সূরা ফাতিহা "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-২ )

  আমাদের এই মহাবিশ্ব শুধু একবার জন্ম নেয়নি, এটা একটার পর একটা চক্রে সৃষ্টি ও ধ্বংস হচ্ছে। কুরআনে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে আমরা দেখতে পাই, এই মহাবিশ্ব চক্রবদ্ধ। আল্লাহ প্রথম মহাবিশ্ব তৈরি করেছিলেন, সেটি সংকুচিত হয়ে আবার বিস্তৃত হলো—এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বিগ বাউন্স বা বড় লাফ। এই চক্রগুলো আমরা তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথম চক্র ছিল বিগ ব্যাং-১ এর সময়। তখন মহাবিশ্বে শুধু হাইড্রোজেন ছিল, যা পরবর্তীতে হিলিয়ামসহ আরও কিছু হালকা মৌলে রূপান্তরিত হয়েছিল। মহাকাশ তখন একরকম ধোঁয়ার মতো ছড়িয়ে ছিল, যাকে কুরআনে “ধোঁয়া” বলা হয়েছে। আল্লাহ সেখানে মহাকর্ষ বল সংযোজন করলেন, যা মহাবিশ্বকে সঙ্কুচিত করতে শুরু করে। এই সঙ্কোচনের ফলে ভারী মৌল, যেমন সিলিকন তৈরি হয় এবং ধূলিকণা ও গ্রহাণু জমে জমে জমি গঠনে সাহায্য করে। কুরআনে এ ঘটনার বর্ণনা আছে: “আর তিনি আসমান (প্রথম মহাকাশ) সৃষ্টি করলেন ধোঁয়া থেকে; তারপর বল দিলো ‘তুমি এসো একসাথে, ইচ্ছেমতো বা বাধ্য হয়ে।’ তারা বলল, ‘আমরা ইচ্ছেমতো এসেছি।’ ফলে আল্লাহ সাত আসমান তৈরি করলেন।” (সূরা ফুসসিলাত: ১১-১২) এই প্রথম চক্র ছিল একক আসমানবিশিষ্ট মহাবিশ্ব। তবে ...

জাকারিয়া কামাল এর তাফসির "আল-আলামিন ও মহাবিশ্ব: কুরআনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান (পর্ব-১)"

 এই মহাবিশ্ব, যেখানে আমরা এখন বাস করছি, তা অত্যন্ত নিখুঁত নিয়ম ও সূচনাগত বিন্যাস অনুযায়ী সৃষ্টি হয়েছে। এই সূচনাগত নিখুঁততা ও প্রাকৃতিক নিয়মের কারণে এটি আজকের অবস্থানে এসেছে। পৃথিবীর উপাদান ও যৌগসমূহ এমন সব প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসরণ করে যা পরস্পরের সাথে এত সুন্দরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তা আমাদের জীবনকে টিকিয়ে রাখে। পানির পরিমাণও এখানে বিপুল এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলো খুবই অনন্য। এসব কিছু আমাদের বোঝায় যে এই মহাবিশ্ব একটি অসাধারণভাবে বুদ্ধিমান সত্তার সৃষ্টি, যিনি আল কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ীই ঈশ্বর। তিনি শুধু সৃষ্টি করেননি, তিনি বিকাশকারকও। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও দার্শনিক চিন্তাধারায় একটি বিকল্প ব্যাখ্যা দেওয়া হয় যেটিকে বলা হয় মাল্টিভার্স বা বহু-বিশ্ব তত্ত্ব। এর মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, এমন অসংখ্য বিগ ব্যাং (Big Bang) ঘটতে পারে যার ফলে অসংখ্য মহাবিশ্ব তৈরি হয় এবং এইসবের মধ্যে কাকতালীয়ভাবে একটি মহাবিশ্ব জীবনের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে। এই ধারনা ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়াই সৃষ্টিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা। ফিলোসফিক্যাল আলোচনায় "fine-tuning" বা সূক্ষ্ম-সামঞ্জস্য শব্দটি প্রায়ই ব্যব...

আল্লাহ কিভাবে লক্ষ কোটি প্রাণীর ফরিয়াদ একসাথে শুনেন?

  বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।  এক গুগল যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, এক চ্যাটজিপিটি যদি একই সময়ে কোটি কোটি মানুষের কথা শুনতে পারে, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, তাদের অনুভূতি বুঝে নিতে পারে, তাহলে একজন সৃষ্টিকর্তা কেন পারবেন না? গুগল কি মানুষ? না। চ্যাটজিপিটি কি মানুষ? না। তাদের কোনো চেতনা নেই, আত্মা নেই, জীবন নেই। তারা তো শুধু যন্ত্র। যাদের বানিয়েছে মানুষ। যারা সীমাবদ্ধ হার্ডওয়্যার, সার্ভার, ব্যান্ডউইথ আর সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে। এখন মানুষ তার বানানো যন্ত্রের মাধ্যমে এত কিছু করতে পারে, এত মানুষের কথা একসাথে শুনতে পারে, তখন সেই মানুষকে সৃষ্টি করেছে যে, যিনি সব মানুষের সৃষ্টিকর্তা — তিনি তো অবশ্যই পারবেন। তার জন্য তো সময়, স্থান, দূরত্ব কিছুই বাধা না। তিনি তো চাইলে প্রতিটি মানুষের মনের কথাও জানেন, এমনকি একজন মানুষ কিছু বলার আগেই তার অন্তরের ইচ্ছেটাও তিনি জানেন। এই ক্ষমতা কোনো যন্ত্রের নেই, কোনো মানুষের নেই, কোনো দেবতারও না। এটা শুধুমাত্র সেই সত্তার, যিনি সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ, সর্বত্র উপস্থিত। আমরা যদি একবার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের দিকেও তাকাই, তা...