""তুয়ারেগ""
বিশ্বের সর্ববৃহৎ মরুভূমি সাহারার এক রহস্যময় উপজাতি গোষ্ঠী এরা। টামাসেক হচ্ছে এদের মাতৃভাষা।
কয়েক শতক ধরেই তপ্ত মরুভূমির এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ঘুরে ফিরে জীবন যাপন করছে যাযাবর এই জাতি। মরুভূমিতে পথ হারিয়ে তাদের শরণাপন্ন হওয়া মাত্র এরা আপনাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেবে খুশি মনেই।
অন্যসব উপজাতি গোষ্ঠীর মাঝে এদেরকে আলাদা রহস্যময় মনে করার বড় কারন হল,
এ সম্প্রদায়ে ছেলেরা বোরকা পরে থাকে।
আর মেয়েরা খোলামেলা হয়ে ঘুরে বেড়ায়।
পরিবারের দেখাশোনা ও সম্পদের ক্ষেত্রে মেয়েদের কর্তৃত্বই শেষ কথা। আর এখানে মেয়েরাই কেবল একাধিক বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অধিকার রাখে।
এছারাও সবথেকে ধনী হওয়া অন্যান্য গোষ্ঠী থেকে এদের আলাদা করার অন্যতম কারন।
সারাক্ষণ নীল কাপড়ে মুখ ঢেকে রাখার কারণে মরুভূমিতে চলাচলকারী মানুষেরা এই গোত্রের পুরুষদের মুখ কখনোই দেখতে পায় না। আর এই মুখ দেখতে না পারার কারণে তারা অন্যান্য গোত্র এবং সারা বিশ্বের কাছে রহস্যময় পুরুষ ‘সাহারার নীল মানব’ নামে পরিচিত।
বিয়ের আগে তুয়ারেগ নারীরা অনেক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াতে পারে। একই ঘটনা পুরুষদের বেলাতেও। তখন তাদের মাঝে নর-নারীর মধ্যকার সম্পর্কটা এতোটাই স্বাভাবিক যে, কোনো নর-নারী যদি তাঁবুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং তাঁবুর বাইরে কোনো উট অপেক্ষমান থাকে তাহলে সেই তাঁবুর আশেপাশে কেউই যায় না। এমনকি তাঁবুতে থাকা নর-নারীর পিতা-মাতাও যায় না। যদি ওই দুই নর-নারীর ইচ্ছে হয় একে অপরের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকার, তবেই সামাজিক আলোচনার ভিত্তিতে বিয়ে হয়। তবে বিয়েতে রাজি হওয়া বা না হওয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকে শুধু নারীদেরই।
তবে বিয়ের পর শুধু নারীরাই একাধিক যৌনসঙ্গী রাখতে পারে। এক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য তারা এতটাই কঠোর যে, কোনো পুরুষ তার শাশুড়ির সঙ্গেও একই তাঁবুর তলায় বসে খেতে পারে না, আলাপ তো দূরের কথা!
তুয়ারেগ পুরুষরা আবার কাব্যচর্চায় অনেক এগিয়ে। নীল কাপড়ে তাদের মুখ ঢাকা থাকলেও মন মোটেও ঢাকা নয়। তাই মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার বহু স্থানে কবিতা পাঠ ও গানের জন্য দূরদুরান্ত থেকে মানুষ তুয়ারেগ পুরুষদের নিয়ে যায়।
এই জাতির উৎপত্তি সম্পর্কে জানা যায়,
চতুর্দশ শতাব্দীর রানী তিন হিনানের মাধ্যমে এ উপজাতি গোষ্ঠীর সূচনা হয়েছে।
তুয়ারেগ সমাজে ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যার ফলে ফটোসাংবাদিক হেনরিয়েত্তা বাতলারকে অনেক চেষ্টা করতে হয়েছিল এই গোষ্ঠীর ডেরায় প্রবেশের জন্য। প্রথমে তুয়ারেগরা তাদের জীবনযাপন থেকে শুরু করে কোনো বিষয় নিয়েই বাতলারের সঙ্গে কথা বলতে চায়নি। কিন্তু তারা যখন বুঝতে পারে বাতলার আর দশজন ফটোগ্রাফারের মতো শুধু ছবি তোলার জন্য আসেননি, তখন তাকে সাহায্য করার জন্য অনেকেই এগিয়ে আসে।
তবে তুয়ারেগদের নিয়ে সবথেকে মজার ব্যাপার হল, তাদের আচার আচরন রীতিনীতি ইসলাম ধর্মের সাথে মিল না খেলেও তারা নিজেদের মুসলিম বলেই দাবী করে থাকেন।
Comments
Post a Comment