Skip to main content

Posts

ফিসফিসানো অরণ্য – পিম ডার্কসের একটি ছোটগল্প

  র‍্যাভেনসউড নামের ছোট শহরটি দীর্ঘদিন ধরে একটি অন্ধকার রহস্য লুকিয়ে রাখার গুঞ্জনে ভরা ছিল। শহরের উপকণ্ঠে একটি প্রাচীন বন ছিল, যা "ফিসফিসে বন" নামে পরিচিত। এর বিকৃত গাছগুলো কঙ্কালের আঙুলের মতো উঠে দাঁড়িয়েছিল, আর ঘন কুয়াশা সবসময় মাটির ওপরে লেগে থাকত, যেন সেখানে পা ফেলার শব্দ ঢেকে দেওয়ার জন্যই। গুজব ছিল, যে কেউ গভীরে প্রবেশ করত, সে আর আগের মতো ফিরে আসত না। কেউ কেউ তো আর ফিরেই আসত না। স্থানীয়রা বলত, বনের ভেতর থেকে অদ্ভুত শব্দ ভেসে আসত—হাওয়ার মধ্যে নরম ফিসফিস, গভীর রাতে রহস্যময় কণ্ঠস্বর, আর কখনো কখনো গাছের ফাঁকে এক ঝলক দেখা যাওয়া অদ্ভুত ছায়ামূর্তি। কিন্তু যারা সত্য খুঁজতে বনে প্রবেশ করেছিল, তারা হয় হারিয়ে গেছে, নয়তো ফিরে এসে আতঙ্কিত চোখে পাগলের মতো কথা বলেছে। আগন্তুক এক শীতল শরতের সন্ধ্যায়, এক যুবক র‍্যাভেনসউডে এসে পৌঁছাল। তার নাম জ্যাক। ছোটবেলা থেকে ফিসফিসে বনের গল্প শুনে বড় হয়েছে সে, আর এখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে নিজেই যাচাই করতে এসেছে গল্পগুলো সত্যি কিনা। জ্যাক ভূত-প্রেত বা অভিশাপে বিশ্বাস করত না। সবকিছুরই যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে, সে এমনটাই মনে করত। ব্যবসার কাজে...

পৃথিবীর আকৃতি: বিজ্ঞান, কুরআনের ইঙ্গিত ও কেবলার দিক নির্ধারণ

  পৃথিবীর আকৃতি নিয়ে তর্ক বহুদিনের। আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত প্রমাণ করেছে যে পৃথিবী গোলাকার। তবে কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে, বিশেষত খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে, পৃথিবী সমতল হওয়ার বিশ্বাস দেখা যায়। খ্রিস্টান ধর্মগ্রন্থ বিকৃত হওয়ার কারণে তাদের মতবাদ ভুল হতে পারে, তবে মুসলিমদের মধ্যে যারা পৃথিবী সমতল বলে বিশ্বাস করেন, তাদের যুক্তি ও বিশ্বাসের ভিত্তি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এই বিশ্বাসের পেছনে প্রায়শই দুটি কুরআনের আয়াত উল্লেখ করা হয়:  সূরা আন-নাবা (৭৮:৬-৭) "আমি কি পৃথিবীকে বিছানা এবং পর্বতমালা পেরেক বানাইনি?" সূরা আল-গাশিয়াহ (৮৮:২০) "এবং তারা কি পৃথিবীর প্রতি মনোযোগ দেয়নি, কিভাবে এটি বিস্তৃত করা হয়েছে?" উপরের আয়াতগুলো কিন্তু পৃথিবী সমতল হওয়ার ব্যাপারে সরাসরি কোনো ইঙ্গিত বহন করে না। বরং এগুলো পৃথিবীকে মানবজীবনের জন্য বাসযোগ্য করার প্রমাণ। এই বিষয় নিয়ে ইসলামিক স্কলাররা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তবে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। কেন এই বিষয় সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি? কারণ রাসূল (সা.)-এর যুগের মানুষেরা এটি হজম করতে পারত না...

জান্নাতে মানুষের বয়স বাড়বে না, কিভাবে সম্ভব? চলুন দেখি প্রমাণ করা যায় কিনা আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে।

জান্নাতে মানুষের বয়স বাড়বে না, কিভাবে সম্ভব? চলুন দেখি প্রমাণ করা যায় কিনা আমাদের সূর্য যদি মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিকে আলোর বেগে প্রদক্ষিণ করত, তবে আমাদের বয়স বাড়তো না। অবাক হয়ে গেলেন নাকি? চলুন প্রমাণ করা যাক! আমরা জানি, জান্নাতে মানুষের বয়স বাড়বে না, তারা চিরতরুণ থাকবে। কিন্তু কীভাবে? বিজ্ঞানের ভাষায় এটি কি সম্ভব? আপেক্ষিকতা তত্ত্ব বলে, সময় ধীর হতে পারে, এমনকি প্রায় স্থিরও হয়ে যেতে পারে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে। যদি আমাদের সূর্য আলোর গতিতে গ্যালাক্সির চারপাশে ঘুরতো, তবে সময়ের প্রবাহ আমাদের জন্য এতটাই ধীর হয়ে যেত যে, বাইরের দুনিয়ার জন্য শত শত বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের কাছে তা কয়েক মুহূর্তের মতো মনে হতো। যদি সূর্য আলোর বেগে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিকে প্রদক্ষিণ করে, তবে সেটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় ৩.১৪ লক্ষ বছর (৩১৪,০০০ বছর) সময় লাগবে। আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না? চলুন বিজ্ঞানের আলোকে বিশ্লেষণ করা যাক। সময় আপেক্ষিক – আপেক্ষিকতা তত্ত্ব কী বলে? আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Theory of Relativity) অনুযায়ী, সময়ের প্রবাহ নির্দিষ্ট নয়, এটি আপেক্ষিক। গতি এবং মহাকর্ষ সময়কে প্রভাবিত কর...

মানুষের ডিএনএ কোডিং, রোবটের প্রোগ্রামিং এবং সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের প্রমাণ

বিজ্ঞান যত আধুনিক হচ্ছে তত আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আমরা আজকে বিজ্ঞানের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব একশ একশ প্রমাণের চেষ্টা করব।  মানুষের ডিএনএ কোডিং, রোবটের প্রোগ্রামিং এবং সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। ডিএনএ একধরনের জৈবিক প্রোগ্রামিং, যা জীবনের সমস্ত জেনেটিক তথ্য ধারণ করে। অপরদিকে, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে প্রোগ্রামিং একটি মৌলিক উপাদান, যা মেশিনকে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতে সাহায্য করে। এই প্রবন্ধে আমরা মানুষের ডিএনএ কোডিং ও রোবটের প্রোগ্রামিংয়ের মধ্যে সাদৃশ্য বিশ্লেষণ করবো এবং দেখাবো কিভাবে এটি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ প্রদান করে। ডিএনএ কোডিং: জীবনের প্রোগ্রামিং ভাষা ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) হলো একটি জোড়া যা  জীবের জেনেটিক তথ্য ধারণকারী অণু, যা দ্বৈত হেলিক্স (ডাবল হেলিক্স) গঠনে দুটি স্ট্র্যান্ড নিয়ে গঠিত। যা দ্বারা সমস্ত প্রাণী জগতের জগৎ ও উদ্ভিদজগত গঠিত। প্রতিটি স্ট্র্যান্ডে চারটি নাইট্রোজেন বেস—অ্যাডেনিন (A), থাইমিন (T), গুয়ানিন (G), এবং সাইটোসিন (C)—নির্দিষ্টভাবে জোড়া গঠন করে: অ...

রেডিও ফ্রিকুয়েন্সিকে বিদ্যুতে পরিণত

স্মার্টফোন যেমন হাতের মুঠোয় গোটা বিশ্বকে নিমেষের মধ্যে এনে দেয়। ঠিক তেমনই খানিক বাদেই ফোনের চার্জও নিমেষের মধ্যে ফোন থেকে হাওয়া। তার উপর গেমস খেলার নেশা থাকলে তো কথাই নেই। ফোনের সঙ্গে সঙ্গে চার্জারও সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হবে। কখন কোথায় চার্জ শেষ হয়ে আপনার স্মার্টফোন চূড়ান্ত আনস্মার্ট হয়ে যায় কিছুই বলা যায় না। এ বার সে সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে চলেছে। গেমস খেলে ফোন রাখার পর দেখবেন নিজে থেকেই চার্জ আবার ফিরে আসছে। ম্যাজিক নয়, খাঁটি বিজ্ঞান। সম্প্রতি একদল মার্কিন বৈজ্ঞানিক এমন এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন, যা রেডিও ফ্রিকুয়েন্সিকে বিদ্যুতে পরিণত করছে। ফলে এমন সমস্ত ডিভাইস যা রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি ধরতে পারে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা সবই চার্জ করা সম্ভব হবে। টেক ক্রাঞ্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি একটি কেস বা কভারের মতো। যেটা ফোনের সিগনাল খুঁজতে খরচ হওয়া ৯০ শতাংশ চার্জ পুনরায় আপনার মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়। যার ফলে মোবাইল আপনাআপনি চার্জ হতে থাকে। আমেরিকার নিকোলা ল্যাবস এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আগামী এক বছরের মধ্যেই এই প্রযুক্তি বাজারে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু মোবা...

জেনে রাখুন ফেসবুকে ব্যবহৃত ছবির মাপ

আমরা ফেসবুকে বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করি। কখনো কভার ফটো হিসেবে। কখনো প্রোফাইল ফটো। আবার কখনো ছবি ব্যবহার করতে হয় আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপনে। কিন্তু জানেন কি? এসব ছবির আছে ফেসবুক নির্ধারিত মাপ। আসুন জেনে নিই সর্বশেষ (এপ্রিল ২০১৬) নির্ধারিত সেই মাপ। Facebook Cover photo size: 828 x 315 desktop / 828 x 462 mobile Facebook Profile photo size: upload 180 x 180 Facebook App / Tab thumbnail size: 111 x 74 Facebook Link preview size: min. 600 x 315 Facebook Photo post size: min. 504 x 504 Facebook Group Cover photo size: 801 x 250 Facebook Event Cover photo size: 784 × 295

১৯৪৫ সালে নয়, ১৯৭১ সালে মারা যান হিটলার!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পরই আত্মহত্যা করেছিলেন সে সময়কার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলার। শুধু তাই নয়, যৌথবাহিনীর হাতে ধরা দেবেন না বলে তিনি ও তার স্ত্রী একসঙ্গেই আত্মহত্যা হয়েছিলেন ১৯৪৫ সালে। তবে এক ইতিহাসবিদ দাবি করেছেন, ওই তথ্যটি সঠিক নয়। আত্মহত্যার নাটক করেছিলেন জার্মানির এই নাৎসিবাদী নেতা। মূলত একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে প্যারাগুয়েতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯৪৫ সালের ৩০ এপ্রিল একটি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছিলেন হিটলার। সায়নায়েড খেয়ে তার সঙ্গেই আত্মঘাতী হন তার স্ত্রী ইভা ব্রাউন। তারপর তাদের দেহ বাঙ্কার থেকে বের করে এনে কবর দেন তার কর্মীরা। এতদিন পর্যন্ত এই ইতিহাসই জেনে এসেছে সারা বিশ্ব। নতুন ওই ইতিহাসবিদ বলছেন, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন হিটলার। ইতিহাসবিদ আবেল বাস্তি জানিয়েছেন, হিটলার কিছুতেই সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে ধরা দেবেন না, তিনি পালিয়ে যাবেন। এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছিল। পাশাপাশি অনেক বিজ্ঞানী, সেনা সদস্য ও গোয়েন্দাও তার সঙ্গে পালাবেন বলে ঠিক হয়। হিটলারের নির্বাসন নিয়ে বাস্তির লেখা বই...